ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পারফিউমের ভুল ব্যবহারে হতে পারে ক্ষতি

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

গলায় সুগন্ধি ব্যবহারে যতটা ভালো লাগে, বাস্তবে তা ততটাই ক্ষতিকর হতে পারে।

কারণ গলার ঠিক নিচেই রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, দেহের তাপমাত্রা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া গলা লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে বড় বড় লিম্ফ নোড ও লিম্ফ নালি, যেগুলো শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে ফেলতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গলায় পারফিউম স্প্রে করা নিঃশব্দে হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পরের বার সুগন্ধি ব্যবহারের আগে জানা জরুরি কিভাবে সিন্থেটিক সুগন্ধি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অনেক সিন্থেটিক পারফিউমে ফথালেটস থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের অনুকরণ করতে পারে বা সেগুলোর কাজ আটকে দিতে পারে।

সংবেদনশীল অংশে নিয়মিত ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন ক্ষমতা এবং শক্তির মাত্রার ওপরও।

গলার ঠিক ওপরেই থাইরয়েড গ্রন্থি। সেখানে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে অল্প পরিমাণে শোষিত হলেও থাইরয়েডের কাজের ওপর সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু থাইরয়েড বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর প্রভাব গোটা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। গলার ত্বক তুলনামূলকভাবে পাতলা, ফলে এখানে রাসায়নিক দ্রুত শোষিত হয়। পারফিউমের ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন হরমোনাল পথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সংবেদনশীল জায়গায় ঘন ঘন ব্যবহার ঝুঁকি আরো বাড়ায়।

ফথালেটস ও সিন্থেটিক কেমিক্যালের সংস্পর্শে মুড সুইং, ক্লান্তি কিংবা ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে। গলার সংবেদনশীল ত্বকে পারফিউমের কারণে র‍্যাশ, লালচে ভাব কিংবা কালচে দাগ পড়তে পারে। বারবার ব্যবহার করলে অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল।

বার্গামটের মতো কিছু উপাদান ত্বককে সূর্যালোকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, কালো দাগ বা ত্বকের রং অসম হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে সান ড্যামেজ আরো বেড়ে যায়। হরমোনের ক্ষতি এড়াতে প্রাকৃতিক সুগন্ধির দিকে ব্যবহার করা ভালো। এসেনশিয়াল অয়েলের ব্লেন্ড বা অ্যালকোহল-ফ্রি রোল-অন ব্যবহার করলে সুগন্ধ বজায় থাকবে, অথচ থাইরয়েড, ত্বক ও সামগ্রিক হরমোন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

পারফিউমের ভুল ব্যবহারে হতে পারে ক্ষতি

আপডেট সময় ০৯:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

গলায় সুগন্ধি ব্যবহারে যতটা ভালো লাগে, বাস্তবে তা ততটাই ক্ষতিকর হতে পারে।

কারণ গলার ঠিক নিচেই রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, দেহের তাপমাত্রা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া গলা লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে বড় বড় লিম্ফ নোড ও লিম্ফ নালি, যেগুলো শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে ফেলতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গলায় পারফিউম স্প্রে করা নিঃশব্দে হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পরের বার সুগন্ধি ব্যবহারের আগে জানা জরুরি কিভাবে সিন্থেটিক সুগন্ধি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অনেক সিন্থেটিক পারফিউমে ফথালেটস থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের অনুকরণ করতে পারে বা সেগুলোর কাজ আটকে দিতে পারে।

সংবেদনশীল অংশে নিয়মিত ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন ক্ষমতা এবং শক্তির মাত্রার ওপরও।

গলার ঠিক ওপরেই থাইরয়েড গ্রন্থি। সেখানে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে অল্প পরিমাণে শোষিত হলেও থাইরয়েডের কাজের ওপর সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু থাইরয়েড বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর প্রভাব গোটা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। গলার ত্বক তুলনামূলকভাবে পাতলা, ফলে এখানে রাসায়নিক দ্রুত শোষিত হয়। পারফিউমের ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন হরমোনাল পথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সংবেদনশীল জায়গায় ঘন ঘন ব্যবহার ঝুঁকি আরো বাড়ায়।

ফথালেটস ও সিন্থেটিক কেমিক্যালের সংস্পর্শে মুড সুইং, ক্লান্তি কিংবা ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে। গলার সংবেদনশীল ত্বকে পারফিউমের কারণে র‍্যাশ, লালচে ভাব কিংবা কালচে দাগ পড়তে পারে। বারবার ব্যবহার করলে অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল।

বার্গামটের মতো কিছু উপাদান ত্বককে সূর্যালোকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, কালো দাগ বা ত্বকের রং অসম হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে সান ড্যামেজ আরো বেড়ে যায়। হরমোনের ক্ষতি এড়াতে প্রাকৃতিক সুগন্ধির দিকে ব্যবহার করা ভালো। এসেনশিয়াল অয়েলের ব্লেন্ড বা অ্যালকোহল-ফ্রি রোল-অন ব্যবহার করলে সুগন্ধ বজায় থাকবে, অথচ থাইরয়েড, ত্বক ও সামগ্রিক হরমোন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।