ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে দাতাদের প্রতি টিআইবির আহ্বান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার প্রভাব উত্তরণে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি অভূতপূর্ব মাত্রায় সহায়তার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি এই আহ্বান জানায় টিআইবি।

সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের কোনো দেশেরই কোভিড-১৯ উদ্ভূত বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ছিল না। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।

জিডিপিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানাবিধ সূচকে উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং দুর্যোগ মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৈশ্বিক পর্যায়ে স্বীকৃত হলেও কোভিড-১৯ উদ্ভূত চলমান সংকট স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের অর্জনসমূহকে ধরে রাখার সম্ভাবনাকে এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কোভিড-১৯ উদ্ভূত চলমান বিপর্যয়ে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি বহুমুখী আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এ পর্যায়ে নিরূপণ সম্ভব না হলেও এটা পরিষ্কার যে, এ গভীর সংকট উত্তরণে উন্নয়ন সহযোগীদের ব্যাপক আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

‘এক্ষেত্রে দীর্ঘকালের নির্ভরযোগ্য অংশীজন হিসেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিসরে সহায়তাসহ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবার জন্য।’

অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা মনে করি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন।’

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সবধরনের প্রকল্প ও উদ্যোগের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোর দুর্নীতিবিরোধী মানদণ্ডের চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান সংস্থাটির প্রধান।

সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান মহাসংকট মোকাবেলা ও উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়া অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক, কিন্ত তা কোনোভাবেই এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের স্বপ্রণোদিত এবং চাহিদামাফিক প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাকে যথার্থতা দিতে পারে না।

বিশেষ করে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের তথ্য প্রাপ্তি ও তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন ও মতপ্রকাশে কোনো অন্তরায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও জানায় টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্যোগকালে ও সংকটের দ্রুত উত্তরণের স্বার্থে কখনো কখনো ক্রয়-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন হবে, কিন্তু এক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রয়-প্রক্রিয়ায় সকল ধরনের যোগসাজশ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, স্বার্থের সংঘাত ও অতিমূল্য নির্ধারণ প্রবণতা প্রতিরোধে যে-কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জনগণের কাছে সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থার ওপর জনগণের আস্থা বাড়াবে। স্বচ্ছতার ঘাটতি হলে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগসন্ধানী, মধ্যস্বত্ত্বভোগী ও দুর্নীতিপ্রবণ স্বার্থান্বেষী মহলের পারস্পরিক যোগসাজশের ফলে ‘দুর্নীতির মহোৎসব’ সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।’

টিআইবি মনে করে, করোনায় সমগ্র বিশ্বকে এক অভূতপূর্ব সমস্যাসংকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আর এই কারণেই সকল পর্যায়ে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।

আর এক্ষেত্রে সরকার ও অন্য সকল অংশীজনের পাশাপাশি দাতা সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে টিআইবি প্রত্যাশা করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধাবমান, বাংলাদেশে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে দাতাদের প্রতি টিআইবির আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনার প্রভাব উত্তরণে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি অভূতপূর্ব মাত্রায় সহায়তার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি এই আহ্বান জানায় টিআইবি।

সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের কোনো দেশেরই কোভিড-১৯ উদ্ভূত বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ছিল না। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।

জিডিপিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানাবিধ সূচকে উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং দুর্যোগ মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৈশ্বিক পর্যায়ে স্বীকৃত হলেও কোভিড-১৯ উদ্ভূত চলমান সংকট স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের অর্জনসমূহকে ধরে রাখার সম্ভাবনাকে এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কোভিড-১৯ উদ্ভূত চলমান বিপর্যয়ে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি বহুমুখী আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এ পর্যায়ে নিরূপণ সম্ভব না হলেও এটা পরিষ্কার যে, এ গভীর সংকট উত্তরণে উন্নয়ন সহযোগীদের ব্যাপক আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

‘এক্ষেত্রে দীর্ঘকালের নির্ভরযোগ্য অংশীজন হিসেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিসরে সহায়তাসহ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবার জন্য।’

অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা মনে করি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাসমূহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন।’

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সবধরনের প্রকল্প ও উদ্যোগের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোর দুর্নীতিবিরোধী মানদণ্ডের চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান সংস্থাটির প্রধান।

সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান মহাসংকট মোকাবেলা ও উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়া অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক, কিন্ত তা কোনোভাবেই এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের স্বপ্রণোদিত এবং চাহিদামাফিক প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাকে যথার্থতা দিতে পারে না।

বিশেষ করে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের তথ্য প্রাপ্তি ও তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন ও মতপ্রকাশে কোনো অন্তরায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও জানায় টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্যোগকালে ও সংকটের দ্রুত উত্তরণের স্বার্থে কখনো কখনো ক্রয়-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন হবে, কিন্তু এক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রয়-প্রক্রিয়ায় সকল ধরনের যোগসাজশ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, স্বার্থের সংঘাত ও অতিমূল্য নির্ধারণ প্রবণতা প্রতিরোধে যে-কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জনগণের কাছে সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থার ওপর জনগণের আস্থা বাড়াবে। স্বচ্ছতার ঘাটতি হলে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগসন্ধানী, মধ্যস্বত্ত্বভোগী ও দুর্নীতিপ্রবণ স্বার্থান্বেষী মহলের পারস্পরিক যোগসাজশের ফলে ‘দুর্নীতির মহোৎসব’ সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।’

টিআইবি মনে করে, করোনায় সমগ্র বিশ্বকে এক অভূতপূর্ব সমস্যাসংকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আর এই কারণেই সকল পর্যায়ে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।

আর এক্ষেত্রে সরকার ও অন্য সকল অংশীজনের পাশাপাশি দাতা সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে টিআইবি প্রত্যাশা করে।