ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা

মোদির সঙ্গ ছাড়ল টিডিপি, অনাস্থার তোড়জোড়

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সমস্ত টানাপোড়েনের অবসান। অবশেষে ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছাড়ার কথা জানিয়ে দিলেন তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। এরপরেই জোট বেঁধে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে।

শুক্রবার সকালে দলীয় সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রবাবু। টিডিপি জানিয়েছে, স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস বা বিশেষ অধিকার না দিয়ে অন্ধ্র প্রদেশকে অপমান করেছে কেন্দ্র। এরপর এনডিএ-র সঙ্গে জোট বজায় রাখা সম্ভব নয়।

অন্ধ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্ধ্রেরই আরেক দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস। অন্ধ্রের রাজনীতিতে ওয়াইএসআর-এর নেতা জগন রেড্ডির সঙ্গে চন্দ্রবাবু নাইডুর অহিনকুল সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও ওয়াইএসআর-এর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করে যেন ‘জোটাবার্তা’ দিয়েছেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

চন্দ্রবাবু এবং জগনের সম্মিলিত ‘বিদ্রোহে’ এনডিএ সরকারের স্থায়িত্বে সমস্যা হবে না ঠিকই। কিন্তু বিজেপির একাংশের আশঙ্কা, আঞ্চলিক দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য অন্যান্য শরিক দলগুলো একই রকমের কড়া অবস্থান নিলে সমস্যায় পড়ে যেতে পারে মোদি সরকার।

শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ। তার ওপরে টিডিপি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস চিন্তা আরও বাড়ালো মোদি-শাহদের। গতকাল চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছিলেন, ‘বাজপেয়ী জমানাতেও তারা এনডিএ জোটে ছিলেন। তাদের পরামর্শ নিতেন বাজপেয়ী। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে তাদের কথা শোনাই হয় না।’

টিডিপির সঙ্গে কেন্দ্রের মোদি সরকারের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছিল অন্ধ্রের বিশেষ অধিকারের দাবি নিয়ে। তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ আলাদা রাজ্য হিসেবে ভাগাভাগির পর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু তার রাজ্য অন্ধ্রের জন্য বিশেষ অধিকারের দাবি তোলেন। কেন্দ্র জানায়, অন্ধ্রের দাবি মেনে বাড়তি অর্থ দিতে তারা রাজি আছে। কিন্তু বিশেষ অধিকার বা ‘স্পেশ্যল স্ট্যাটাস’ দেয়া সম্ভব নয়।

কেন্দ্রের আশঙ্কা ছিল, অন্ধ্রকে যদি এই বিশেষ রাজ্যের সুবিধা দেয়া হয়, তবে একই দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব কিংবা বিহারের মতো রাজ্যগুলোও গলা চড়াবে। দাবি পূরণ না হওয়ায় দিন দু’য়েক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন টিডিপির দুই সাংসদ অশোক গজপতি রাজু এবং ওয়াই এস চৌধুরি। পাল্টা অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু মন্ত্রিসভা থেকেও দুই বিজেপি মন্ত্রী বেরিয়ে আসেন। এরপর দুই দলের মধ্যে সামান্য যেটুকু সম্পর্ক অবশিষ্ট ছিল, তাও আজ ছিন্ন হয়ে গেল।

লোকসভায় টিডিপি সাংসদের সংখ্যা ১৬, জগনের দলে রয়েছেন ৯ জন। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ সাংসদের সমর্থন দরকার। এদিকে, জোট বেঁধে অনাস্থার প্রক্রিয়া নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। অনাস্থায় চন্দ্রবাবু এবং জগনকে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছে সিপিএম। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে একটু একটু করে বাড়ছে জোটের হাওয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

মোদির সঙ্গ ছাড়ল টিডিপি, অনাস্থার তোড়জোড়

আপডেট সময় ০৩:০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সমস্ত টানাপোড়েনের অবসান। অবশেষে ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছাড়ার কথা জানিয়ে দিলেন তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। এরপরেই জোট বেঁধে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে।

শুক্রবার সকালে দলীয় সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রবাবু। টিডিপি জানিয়েছে, স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস বা বিশেষ অধিকার না দিয়ে অন্ধ্র প্রদেশকে অপমান করেছে কেন্দ্র। এরপর এনডিএ-র সঙ্গে জোট বজায় রাখা সম্ভব নয়।

অন্ধ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্ধ্রেরই আরেক দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস। অন্ধ্রের রাজনীতিতে ওয়াইএসআর-এর নেতা জগন রেড্ডির সঙ্গে চন্দ্রবাবু নাইডুর অহিনকুল সম্পর্ক। তা সত্ত্বেও ওয়াইএসআর-এর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করে যেন ‘জোটাবার্তা’ দিয়েছেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

চন্দ্রবাবু এবং জগনের সম্মিলিত ‘বিদ্রোহে’ এনডিএ সরকারের স্থায়িত্বে সমস্যা হবে না ঠিকই। কিন্তু বিজেপির একাংশের আশঙ্কা, আঞ্চলিক দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য অন্যান্য শরিক দলগুলো একই রকমের কড়া অবস্থান নিলে সমস্যায় পড়ে যেতে পারে মোদি সরকার।

শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ। তার ওপরে টিডিপি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস চিন্তা আরও বাড়ালো মোদি-শাহদের। গতকাল চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছিলেন, ‘বাজপেয়ী জমানাতেও তারা এনডিএ জোটে ছিলেন। তাদের পরামর্শ নিতেন বাজপেয়ী। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে তাদের কথা শোনাই হয় না।’

টিডিপির সঙ্গে কেন্দ্রের মোদি সরকারের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছিল অন্ধ্রের বিশেষ অধিকারের দাবি নিয়ে। তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ আলাদা রাজ্য হিসেবে ভাগাভাগির পর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু তার রাজ্য অন্ধ্রের জন্য বিশেষ অধিকারের দাবি তোলেন। কেন্দ্র জানায়, অন্ধ্রের দাবি মেনে বাড়তি অর্থ দিতে তারা রাজি আছে। কিন্তু বিশেষ অধিকার বা ‘স্পেশ্যল স্ট্যাটাস’ দেয়া সম্ভব নয়।

কেন্দ্রের আশঙ্কা ছিল, অন্ধ্রকে যদি এই বিশেষ রাজ্যের সুবিধা দেয়া হয়, তবে একই দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব কিংবা বিহারের মতো রাজ্যগুলোও গলা চড়াবে। দাবি পূরণ না হওয়ায় দিন দু’য়েক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন টিডিপির দুই সাংসদ অশোক গজপতি রাজু এবং ওয়াই এস চৌধুরি। পাল্টা অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু মন্ত্রিসভা থেকেও দুই বিজেপি মন্ত্রী বেরিয়ে আসেন। এরপর দুই দলের মধ্যে সামান্য যেটুকু সম্পর্ক অবশিষ্ট ছিল, তাও আজ ছিন্ন হয়ে গেল।

লোকসভায় টিডিপি সাংসদের সংখ্যা ১৬, জগনের দলে রয়েছেন ৯ জন। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ সাংসদের সমর্থন দরকার। এদিকে, জোট বেঁধে অনাস্থার প্রক্রিয়া নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। অনাস্থায় চন্দ্রবাবু এবং জগনকে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছে সিপিএম। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে একটু একটু করে বাড়ছে জোটের হাওয়া।