ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কোচিং বাণিজ্যে ঢাকার আট স্কুলের ৯৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগরের স্বনামধন্য আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। গতকাল রবিবার চিঠিটি সিই হয়। আর আজ সোমবার চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রবণ কুমার ভট্টাচার্য চিঠির বিষয়টি দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুদকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেবেন তারা। যে আটটি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এসেছে তার মধ্যে চারটি বেসরকারি এবং চারটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬ জন শিক্ষক, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪ জন, ঢাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাত জন, রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর সরকারি চারটি স্কুলের মধ্যে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ১২ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৪ জন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ১ জন এবং ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের আট জন শিক্ষক রয়েছেন।

সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ইদানীং স্কুলগুলোতে ক্লাসের পাশাপাশি কোচিং করানোর চল তৈরি হয়েছে। ক্লাসেই পড়া বুঝিয়ে দেয়ার বদলে শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে নানা কৌশলে কোচিংয়ে আসতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ আছে। এতে অভিভাবকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বছর পাঁচেক আগেই এই কোচিং বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ বিষয়ে একটি আইন করার প্রক্রিয়াও চলছে। অভিভাবক ও নানা সূত্র থেকে পাওয়া অভিযোগের পর ঢাকার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই চিঠি দেয়।

চিঠিতে বলা হয়, কোচিং বন্ধে কোনো আইন না থাকায় সাধারণত কোচিং বা টিউশনি থেকে উপার্জিত আয়ের ওপর কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স দেওয়া হয় না। ফলে এভাবে উপার্জিত আয় অনুপার্জিত আয়ে পরিণত হয়। কোচিং বাণিজ্যের ফলে যেভাবে অনৈতিক আয় ভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি এটি বুদ্ধিবৃত্তিমূলক মেধা সৃষ্টির প্রয়াসের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া কোচিং এর কারণে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সাজেশন অনুসারে স্বল্প সংখ্যক প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বই সম্পর্কে তারা ধারণা পাচ্ছে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কোচিং বাণিজ্যে ঢাকার আট স্কুলের ৯৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট সময় ১১:০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগরের স্বনামধন্য আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। গতকাল রবিবার চিঠিটি সিই হয়। আর আজ সোমবার চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রবণ কুমার ভট্টাচার্য চিঠির বিষয়টি দৈনিক আকাশকে নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, দুদকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেবেন তারা। যে আটটি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এসেছে তার মধ্যে চারটি বেসরকারি এবং চারটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬ জন শিক্ষক, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪ জন, ঢাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাত জন, রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর সরকারি চারটি স্কুলের মধ্যে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ১২ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৪ জন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ১ জন এবং ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের আট জন শিক্ষক রয়েছেন।

সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ইদানীং স্কুলগুলোতে ক্লাসের পাশাপাশি কোচিং করানোর চল তৈরি হয়েছে। ক্লাসেই পড়া বুঝিয়ে দেয়ার বদলে শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে নানা কৌশলে কোচিংয়ে আসতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ আছে। এতে অভিভাবকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বছর পাঁচেক আগেই এই কোচিং বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ বিষয়ে একটি আইন করার প্রক্রিয়াও চলছে। অভিভাবক ও নানা সূত্র থেকে পাওয়া অভিযোগের পর ঢাকার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই চিঠি দেয়।

চিঠিতে বলা হয়, কোচিং বন্ধে কোনো আইন না থাকায় সাধারণত কোচিং বা টিউশনি থেকে উপার্জিত আয়ের ওপর কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স দেওয়া হয় না। ফলে এভাবে উপার্জিত আয় অনুপার্জিত আয়ে পরিণত হয়। কোচিং বাণিজ্যের ফলে যেভাবে অনৈতিক আয় ভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি এটি বুদ্ধিবৃত্তিমূলক মেধা সৃষ্টির প্রয়াসের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া কোচিং এর কারণে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সাজেশন অনুসারে স্বল্প সংখ্যক প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বই সম্পর্কে তারা ধারণা পাচ্ছে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।