যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার মতো সব অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নেতারা দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব)-এর হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী এবং জাতীয় গণফ্রন্টের রজত হুদাসহ আরও অনেকে। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রবীণ বামপন্থী নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান, খালেকুজ্জামান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. শাহ আলম, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, রুহিন হোসেন ও কবি মোহন রায়হানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনমত উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অধীনতামূলক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের দাবি, বন্দরগুলো ধারাবাহিকভাবে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বিদেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান উঠলেও বর্তমান সরকার ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি অনুসরণ করছে। এছাড়া দিল্লির একটি কোম্পানিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের ঠিকাদারি দেওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও তারা তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১–দলীয় জোটও চুক্তির বিরোধিতা না করে কার্যত সমর্থন দিচ্ছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। তাঁদের অভিযোগ, এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে অন্য শক্তির কাছে দেশকে নির্ভরশীল করে তুলছে শাসকগোষ্ঠী।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি খননের উদ্যোগ বন্ধ করা, সুন্দরবন ধ্বংস করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কোনো সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ থেকে সরে আসা। দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বক্তারা পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী দুই মাস জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা ও গণসংযোগ চালানো হবে। জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ ঘোষণা করেন, এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করা হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন এবং হাসান ফখরী কবিতা আবৃত্তি করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















