ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে পরিচিত বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। গত বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারের সময় তাহসিফের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে বা মরদেহের কাছে গিয়ে মৃতদেহের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে।
সুরতহাল প্রতিবেদনের বিস্তারিত বর্ণনায় জানানো হয়, ২৮ বছর বয়সী তাহসিফের উচ্চতা ছিল আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তাঁর মাথার চুল কালো এবং মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। উদ্ধারকালে তাঁর চোখ ও মুখ বন্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পেট কিছুটা ফোলা ছিল এবং দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন বুক, পেট, পিঠ, পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকালে তিনি কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট এবং সাদা ট্রাউজার পরা ছিলেন।
নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহের পকেটে পাওয়া আইফোন ও হাতের ঘড়ি দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী অপমৃত্যুর পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল মর্গে পাঠানো হয়েছে। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাসকারী তাহসিফের গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাহসিফ সুরি আলোচনায় আসেন।
গত জুলাই মাসে একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণের জেরেই তাঁকে বিমান বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে। একই অনুষ্ঠানে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, প্রতিবেদনটি সম্ভবত কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, বিমান বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ার পর তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করার কারণে বিমান বাহিনী থেকে তাঁর চাকরি গেছে কি না। জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”।
এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বিষয়টির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়। আইএসপিআর স্পষ্ট করে জানায়, ওই দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















