ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এবার গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা হারিয়ে আইজেনকটের সাথে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করতে চাইছে। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে আদর্শগত বড় ব্যবধান রয়েছে, তবুও ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইউটিজে নেতারা আইজেনকটের ফোন কলের অপেক্ষায় আছেন বলে জানা গেছে। তবে আইজেনকটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩–এর বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, চ্যানেল ১৩ আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মঙ্গলবার নির্বাচনের পর ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) সদস্যরা নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা না থাকায় ইউটিজের নেতারা আইজেনকটকে সহযোগিতা করতে চান। চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই ইউটিজের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তারা কথা বলেছে। দলটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে আইজেনকোট এখনো ইউটেজির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি বলে উল্লেখ করেছে চ্যানেল ১৩।
জেরুজালেম পোস্টের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৬.১ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আরব দলগুলো ১৯টি আসন নিশ্চিত করেছে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি আসন এবং তাদের শরিক ইউটিজে ৭টি আসন পেয়েছে। জোটের অন্যান্য দলের মধ্যে ওৎমা ইহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি ৬টি আসন পাচ্ছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩ আসন ও গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮ আসন পেতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে গাদি আইজেনকটের দল ইয়াশার এককভাবে ২১টি আসন নিয়ে এগিয়ে আছে। এছাড়া বি’ইয়াসাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং ইয়াসরায়েল বেইতেইনু ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। সরকার গঠনের লড়াইয়ে আরব দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে; যেখানে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং মনসুর আব্বাসের দল রাআম ৮টি আসন পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বা সরকার গঠন কীভাবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের উচিত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া। নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের আহ্বান মার্কিন ইহুদিদের। এ অবস্থায় উদারপন্থী ইহুদিরা আরবদের সঙ্গে জোট করতে বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের।
ভবিষ্যৎ সরকার গঠনে এখনো বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ ব্যালট বা ‘ডাবল এনভেলপ’ পদ্ধতির প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট এখনো গণনা বাকি আছে। কারাবন্দী, সেনাসদস্য এবং কূটনীতিকদের এই ভোটগুলোর ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সমীকরণ চূড়ান্ত করবে। একটি বা দুটি আসনের ব্যবধানও এখানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ভোট গণনার পর সমীকরণ কিছুটা বদলেও যেতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















