মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১১৪ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে স্থির হয়, যা আগের তুলনায় ৮৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কম।
এই মূল্যহ্রাসের পেছনে মূলত অঞ্চলটিতে নতুন করে শুরু হওয়া কূটনৈতিক তৎপরতাকে দায়ী করা হচ্ছে। সম্প্রতি তেহরানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরান প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট চার দেশ চলমান এই আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। নয়াদিল্লির গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেব মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় এ ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ধারাবাহিকভাবে হামলা হওয়ার পর ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ ছিল। সোমবারও বাজার একই উচ্চমূল্যে অবস্থান করছিল। তবে এখনকার পতন সত্ত্বেও সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলার ঘটনায় শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করছে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
এএনজেড রিসার্চের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এর পেছনে পরিবহন সমস্যা, তেল পরিশোধন খাতে ঘাটতি এবং মজুত কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো দায়ী। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো সংকুচিত হয়েছে। সেই সাথে বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানির মজুতও গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে, যা জ্বালানি খাতের অস্থিরতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























