ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিতে ইসরাইলকে নেতানিয়াহুর পরামর্শ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির জনগণকে আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম এমন পরিকাঠামো নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন সচল রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে নেতানিয়াহু মত দিয়েছেন। তিনি তার উপদেষ্টাদের এই প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন ধারণা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে এবং এতে অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে সম্পন্ন লেনদেনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। তবে গত মাসে দ্য টাইমস অব ইসরাইল-এর সঙ্গে কথা বলা অর্থনীতিবিদ ও শিল্প খাতের ব্যক্তিরা সতর্ক করেছিলেন, এর অর্থনৈতিক প্রভাব ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এরই মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ইসরাইলের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের বিতর্কিত নীতির কারণেই ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও নেতানিয়াহু অকপট কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল অব্যাহত থাকবে না। তিনি বলেন, আমেরিকা বদলে গেছে এবং ইসরাইলকে এখন থেকেই সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এর জন্য দায়ী করেছেন, কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, তার নিজস্ব নীতির কারণেই সমর্থন কমে যাচ্ছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। নেতানিয়াহু বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আমি যে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা নিশ্চিত করেছি, তা আমরা ভবিষ্যতেও পেতে থাকব, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন এবং বাস্তবতাটি মেনে নিতে অভ্যস্ত হন। তবে তার সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, নেতানিয়াহুর নীতিই এই জনসমর্থন হ্রাসের পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ ও ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ দলের ইয়াইর গোলান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন যে তার সরকার আবার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করবে। ইয়াইর গোলান নেতানিয়াহুকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিয়ন্ত্রণহীন আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

কারো প্রতি আমার সন্দেহ নেই -: আসিফ আকবর

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিতে ইসরাইলকে নেতানিয়াহুর পরামর্শ

আপডেট সময় ১২:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির জনগণকে আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম এমন পরিকাঠামো নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন সচল রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে নেতানিয়াহু মত দিয়েছেন। তিনি তার উপদেষ্টাদের এই প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন ধারণা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে এবং এতে অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে সম্পন্ন লেনদেনের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। তবে গত মাসে দ্য টাইমস অব ইসরাইল-এর সঙ্গে কথা বলা অর্থনীতিবিদ ও শিল্প খাতের ব্যক্তিরা সতর্ক করেছিলেন, এর অর্থনৈতিক প্রভাব ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এরই মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ইসরাইলের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের বিতর্কিত নীতির কারণেই ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও নেতানিয়াহু অকপট কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল অব্যাহত থাকবে না। তিনি বলেন, আমেরিকা বদলে গেছে এবং ইসরাইলকে এখন থেকেই সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এর জন্য দায়ী করেছেন, কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, তার নিজস্ব নীতির কারণেই সমর্থন কমে যাচ্ছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। নেতানিয়াহু বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আমি যে দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা নিশ্চিত করেছি, তা আমরা ভবিষ্যতেও পেতে থাকব, তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন এবং বাস্তবতাটি মেনে নিতে অভ্যস্ত হন। তবে তার সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, নেতানিয়াহুর নীতিই এই জনসমর্থন হ্রাসের পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ ও ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ দলের ইয়াইর গোলান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন যে তার সরকার আবার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করবে। ইয়াইর গোলান নেতানিয়াহুকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং নিয়ন্ত্রণহীন আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।