ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই চীনে নামল ইরানের মাহান এয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও চীনের গুয়াংজু বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ থেকে পাওয়া তথ্যে বিষয়টি জানা গেছে। তেহরান থেকে রওনা দেওয়া এই ফ্লাইটটি গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এই ফ্লাইটের অবতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এই অমিলটি নিয়ে এখন নানা মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। মাহান এয়ার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

ইরানি এই বিমানটির অবতরণের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন ইরান ও তাদের বিমান পরিবহন খাতের ওপর মার্কিন চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সতর্ক বার্তায় জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণ সুবিধা দেবে বা প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বেসেন্ট আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এসব দেশকে ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বা এর পরিধি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে বা এর আওতা কতটা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

মাহান এয়ারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে চীনের মাটিতে এই সংস্থার উড়োজাহাজের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় নয়, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও চীন-ইরান বিমান যোগাযোগের কৌশলগত সম্পর্কের এক বড় পরীক্ষা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানি বিমানকে সেবা দেওয়া দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই অবতরণের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বুধবার থেকেই তেহরান থেকে বাগদাদ, মাসকাট ও আঙ্কারাগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা জটিলতায় জর্জরিত ইরানের এভিয়েশন খাত। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে আকাশপথে সংযোগ বজায় রাখা তেহরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং বিমানবন্দরের তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে এই ঘটনাটি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি এবং বিস্তারিত পরিস্থিতি অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ১ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই চীনে নামল ইরানের মাহান এয়ার

আপডেট সময় ১২:২৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও চীনের গুয়াংজু বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ থেকে পাওয়া তথ্যে বিষয়টি জানা গেছে। তেহরান থেকে রওনা দেওয়া এই ফ্লাইটটি গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এই ফ্লাইটের অবতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এই অমিলটি নিয়ে এখন নানা মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। মাহান এয়ার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

ইরানি এই বিমানটির অবতরণের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন ইরান ও তাদের বিমান পরিবহন খাতের ওপর মার্কিন চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সতর্ক বার্তায় জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণ সুবিধা দেবে বা প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বেসেন্ট আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এসব দেশকে ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বা এর পরিধি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে বা এর আওতা কতটা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

মাহান এয়ারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে চীনের মাটিতে এই সংস্থার উড়োজাহাজের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় নয়, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও চীন-ইরান বিমান যোগাযোগের কৌশলগত সম্পর্কের এক বড় পরীক্ষা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানি বিমানকে সেবা দেওয়া দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই অবতরণের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বুধবার থেকেই তেহরান থেকে বাগদাদ, মাসকাট ও আঙ্কারাগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা জটিলতায় জর্জরিত ইরানের এভিয়েশন খাত। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে আকাশপথে সংযোগ বজায় রাখা তেহরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং বিমানবন্দরের তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে এই ঘটনাটি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি এবং বিস্তারিত পরিস্থিতি অস্পষ্ট রয়ে গেছে।