ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

সিলেটে মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এর আগে সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম সিলেট সফর।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

ভৌগোলিক কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উলটো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। মূলত ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থেকেই এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইসগেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এতে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

এছাড়া শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে নির্মাণ করা হবে ফ্লাড ওয়াল বা বন্যা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল।

প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার। সিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সিলেটে মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এর আগে সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম সিলেট সফর।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

ভৌগোলিক কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উলটো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। মূলত ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থেকেই এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইসগেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এতে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

এছাড়া শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে নির্মাণ করা হবে ফ্লাড ওয়াল বা বন্যা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল।

প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার। সিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।