ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বুধবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে তিনি ধন্যবাদ দিতে পারছেন না। কারণ এই রাষ্ট্রপতি গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির এত দুর্বলতা কেন—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির একসময় মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি থেকে সরাতে সময় লাগেনি। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন রাষ্ট্রপতি রাখা হচ্ছে, এটা বিএনপি ভালো বলতে পারবে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি দলের লোকদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে আর কোনো সমস্যা নেই। একমাত্র সমস্যা হলো বিরোধী দল।’

১৯৯৭ সাল থেকে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আমরা তো প্রায় একসাথেই ছিলাম। তখন তো কেউ সমস্যার কথা বলেনি।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম যে এখন বাংলাদেশে কোনো জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কোনো কথা নেই। তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে—এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে সারাদেশে। এ ব্যাপারে সরকারি দলের কোনো বক্তব্য নেই। বক্তব্যের বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামী।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ২০১৩ সালেই হওয়ার কথা ছিল। ২৯ ডিসেম্বর লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ছিল। সবাই ভেবেছিল সেদিন পতন হবে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গুলশানে একটি বাসায় বৈঠক করেছিলেন। সেখানে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সারা বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরদিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া সবার ফোন বন্ধ ছিল।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ম্যাডাম সকাল থেকে কাজের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বালির ট্রাকের সামনে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। চলেন বিএনপি এবং জামায়াত মিলে অন্তত একটা মিছিল সেদিকে দিই। কিন্তু সেদিন কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের হয়নি।’

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা লড়াই করেছিলাম বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আমরা লড়াই করেছিলাম একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে।

সরকারের বয়স দুই মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দলীয়করণ শুরু হয়ে গেছে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে যে সকল অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ফ্যাসিবাদের আমলে ওএসডি হয়েছিল, আবার এখনো তাদেরকে ওএসডি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি ফ্যাসিবাদের দোসর যারা, তারা কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বহাল ছিল। আমরা তখনও বলেছি, এখনো বহাল আছে এবং তারা সুবিধামতো পোস্টিংও পাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রমোশন পেয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এই ১৬–১৭ বছর নিষ্পেষিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, ওএসডি ছিল—অনেকের চাকরি চলে গেছে—এদেরকে আবারও ওএসডি করা হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগে বেশি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসলে সব জায়গায় কিন্তু আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যেটা কারোর জন্যই আমাদের জন্য ভালো নয়, দেশের জন্যও ভালো নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম

আপডেট সময় ১০:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সব জায়গায় আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বুধবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে তিনি ধন্যবাদ দিতে পারছেন না। কারণ এই রাষ্ট্রপতি গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির এত দুর্বলতা কেন—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির একসময় মহাসচিব বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি থেকে সরাতে সময় লাগেনি। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন রাষ্ট্রপতি রাখা হচ্ছে, এটা বিএনপি ভালো বলতে পারবে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি দলের লোকদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে আর কোনো সমস্যা নেই। একমাত্র সমস্যা হলো বিরোধী দল।’

১৯৯৭ সাল থেকে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আমরা তো প্রায় একসাথেই ছিলাম। তখন তো কেউ সমস্যার কথা বলেনি।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম যে এখন বাংলাদেশে কোনো জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কোনো কথা নেই। তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে—এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে সারাদেশে। এ ব্যাপারে সরকারি দলের কোনো বক্তব্য নেই। বক্তব্যের বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামী।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ২০১৩ সালেই হওয়ার কথা ছিল। ২৯ ডিসেম্বর লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ছিল। সবাই ভেবেছিল সেদিন পতন হবে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গুলশানে একটি বাসায় বৈঠক করেছিলেন। সেখানে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সারা বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোক সেদিন ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরদিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া সবার ফোন বন্ধ ছিল।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ম্যাডাম সকাল থেকে কাজের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বালির ট্রাকের সামনে পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। চলেন বিএনপি এবং জামায়াত মিলে অন্তত একটা মিছিল সেদিকে দিই। কিন্তু সেদিন কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের হয়নি।’

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা লড়াই করেছিলাম বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আমরা লড়াই করেছিলাম একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে।

সরকারের বয়স দুই মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দলীয়করণ শুরু হয়ে গেছে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে যে সকল অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ফ্যাসিবাদের আমলে ওএসডি হয়েছিল, আবার এখনো তাদেরকে ওএসডি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি ফ্যাসিবাদের দোসর যারা, তারা কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বহাল ছিল। আমরা তখনও বলেছি, এখনো বহাল আছে এবং তারা সুবিধামতো পোস্টিংও পাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রমোশন পেয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এই ১৬–১৭ বছর নিষ্পেষিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, ওএসডি ছিল—অনেকের চাকরি চলে গেছে—এদেরকে আবারও ওএসডি করা হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগে বেশি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসলে সব জায়গায় কিন্তু আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যেটা কারোর জন্যই আমাদের জন্য ভালো নয়, দেশের জন্যও ভালো নয়।