ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রহস্যময় ধূমকেতুর উল্টো ঘোরা: মহাকাশে নতুন চমক

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের গভীরে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত ঘটনা! একটি ছোট ধূমকেতুর আগে গতি কমলো, তারপর একসময় প্রায় থেমে গেল। আর এরপর যা ঘটল, তা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা—ধূমকেতুটি উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করল!

এই ধূমকেতুর নাম Comet 41P/Tuttle-Giacobini-Kresak, সংক্ষেপে ৪১পি। বিজ্ঞানীরা নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধূমকেতুটি এসেছে কুইপার বেল্ট (সূর্যের অনেক দূরের বরফময় অঞ্চল) থেকে। পরে বৃহস্পতি গ্রহের টানে এটি এখন সূর্যের কাছাকাছি এলাকায় ঘোরে। প্রতি ৫.৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে।

২০১৭ সালে সূর্যের কাছে আসার পর এর ঘোরার গতি বদলে যায়। আগে দ্রুত ঘুরলেও পরে অনেক ধীর হয়ে যায়। এমনকি প্রায় থেমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর ধীরে ধীরে উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করে।

কেন এমন হলো? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুর গায়ে বরফ থাকে। সূর্যের কাছে গেলে এই বরফ গরম হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যেন ছোট ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। সব দিক থেকে সমানভাবে না বের হলে ধূমকেতুর ঘোরার দিক বদলে যেতে পারে।

গবেষক ডেভিড জেউইট বিষয়টি সহজ করে বলেন, যেমন একটি দোলনা একদিকে ঘুরছে, আপনি যদি উল্টো দিকে ঠেলা দেন, তাহলে তা ধীরে হয়ে শেষে উল্টো দিকে ঘুরতে পারে।

এই ধূমকেতুটি আকারে ছোট—প্রায় ১ কিলোমিটার চওড়া (আইফেল টাওয়ারের তিন গুণ উচ্চতার মতো)। ছোট হওয়ায় এর ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও এক চমক—সময় যত যাচ্ছে, এর গ্যাস বের হওয়ার ক্ষমতা কমছে। ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় ১০ গুণ কম সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ, এর বরফ ফুরিয়ে যাচ্ছে বা উপরে ধুলার স্তর জমছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এমন পরিবর্তন হতে শত-হাজার বছর লাগে। কিন্তু ৪১পি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এটি বিজ্ঞানীদের জন্য কম সময়েই মহাকাশের রহস্য বোঝার একটি বড় সুযোগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রহস্যময় ধূমকেতুর উল্টো ঘোরা: মহাকাশে নতুন চমক

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের গভীরে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত ঘটনা! একটি ছোট ধূমকেতুর আগে গতি কমলো, তারপর একসময় প্রায় থেমে গেল। আর এরপর যা ঘটল, তা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা—ধূমকেতুটি উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করল!

এই ধূমকেতুর নাম Comet 41P/Tuttle-Giacobini-Kresak, সংক্ষেপে ৪১পি। বিজ্ঞানীরা নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধূমকেতুটি এসেছে কুইপার বেল্ট (সূর্যের অনেক দূরের বরফময় অঞ্চল) থেকে। পরে বৃহস্পতি গ্রহের টানে এটি এখন সূর্যের কাছাকাছি এলাকায় ঘোরে। প্রতি ৫.৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে।

২০১৭ সালে সূর্যের কাছে আসার পর এর ঘোরার গতি বদলে যায়। আগে দ্রুত ঘুরলেও পরে অনেক ধীর হয়ে যায়। এমনকি প্রায় থেমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর ধীরে ধীরে উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করে।

কেন এমন হলো? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুর গায়ে বরফ থাকে। সূর্যের কাছে গেলে এই বরফ গরম হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যেন ছোট ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। সব দিক থেকে সমানভাবে না বের হলে ধূমকেতুর ঘোরার দিক বদলে যেতে পারে।

গবেষক ডেভিড জেউইট বিষয়টি সহজ করে বলেন, যেমন একটি দোলনা একদিকে ঘুরছে, আপনি যদি উল্টো দিকে ঠেলা দেন, তাহলে তা ধীরে হয়ে শেষে উল্টো দিকে ঘুরতে পারে।

এই ধূমকেতুটি আকারে ছোট—প্রায় ১ কিলোমিটার চওড়া (আইফেল টাওয়ারের তিন গুণ উচ্চতার মতো)। ছোট হওয়ায় এর ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও এক চমক—সময় যত যাচ্ছে, এর গ্যাস বের হওয়ার ক্ষমতা কমছে। ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় ১০ গুণ কম সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ, এর বরফ ফুরিয়ে যাচ্ছে বা উপরে ধুলার স্তর জমছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এমন পরিবর্তন হতে শত-হাজার বছর লাগে। কিন্তু ৪১পি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এটি বিজ্ঞানীদের জন্য কম সময়েই মহাকাশের রহস্য বোঝার একটি বড় সুযোগ।