ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহস্যময় ধূমকেতুর উল্টো ঘোরা: মহাকাশে নতুন চমক

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের গভীরে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত ঘটনা! একটি ছোট ধূমকেতুর আগে গতি কমলো, তারপর একসময় প্রায় থেমে গেল। আর এরপর যা ঘটল, তা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা—ধূমকেতুটি উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করল!

এই ধূমকেতুর নাম Comet 41P/Tuttle-Giacobini-Kresak, সংক্ষেপে ৪১পি। বিজ্ঞানীরা নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধূমকেতুটি এসেছে কুইপার বেল্ট (সূর্যের অনেক দূরের বরফময় অঞ্চল) থেকে। পরে বৃহস্পতি গ্রহের টানে এটি এখন সূর্যের কাছাকাছি এলাকায় ঘোরে। প্রতি ৫.৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে।

২০১৭ সালে সূর্যের কাছে আসার পর এর ঘোরার গতি বদলে যায়। আগে দ্রুত ঘুরলেও পরে অনেক ধীর হয়ে যায়। এমনকি প্রায় থেমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর ধীরে ধীরে উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করে।

কেন এমন হলো? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুর গায়ে বরফ থাকে। সূর্যের কাছে গেলে এই বরফ গরম হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যেন ছোট ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। সব দিক থেকে সমানভাবে না বের হলে ধূমকেতুর ঘোরার দিক বদলে যেতে পারে।

গবেষক ডেভিড জেউইট বিষয়টি সহজ করে বলেন, যেমন একটি দোলনা একদিকে ঘুরছে, আপনি যদি উল্টো দিকে ঠেলা দেন, তাহলে তা ধীরে হয়ে শেষে উল্টো দিকে ঘুরতে পারে।

এই ধূমকেতুটি আকারে ছোট—প্রায় ১ কিলোমিটার চওড়া (আইফেল টাওয়ারের তিন গুণ উচ্চতার মতো)। ছোট হওয়ায় এর ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও এক চমক—সময় যত যাচ্ছে, এর গ্যাস বের হওয়ার ক্ষমতা কমছে। ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় ১০ গুণ কম সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ, এর বরফ ফুরিয়ে যাচ্ছে বা উপরে ধুলার স্তর জমছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এমন পরিবর্তন হতে শত-হাজার বছর লাগে। কিন্তু ৪১পি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এটি বিজ্ঞানীদের জন্য কম সময়েই মহাকাশের রহস্য বোঝার একটি বড় সুযোগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

রহস্যময় ধূমকেতুর উল্টো ঘোরা: মহাকাশে নতুন চমক

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাকাশের গভীরে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত ঘটনা! একটি ছোট ধূমকেতুর আগে গতি কমলো, তারপর একসময় প্রায় থেমে গেল। আর এরপর যা ঘটল, তা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা—ধূমকেতুটি উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করল!

এই ধূমকেতুর নাম Comet 41P/Tuttle-Giacobini-Kresak, সংক্ষেপে ৪১পি। বিজ্ঞানীরা নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধূমকেতুটি এসেছে কুইপার বেল্ট (সূর্যের অনেক দূরের বরফময় অঞ্চল) থেকে। পরে বৃহস্পতি গ্রহের টানে এটি এখন সূর্যের কাছাকাছি এলাকায় ঘোরে। প্রতি ৫.৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে।

২০১৭ সালে সূর্যের কাছে আসার পর এর ঘোরার গতি বদলে যায়। আগে দ্রুত ঘুরলেও পরে অনেক ধীর হয়ে যায়। এমনকি প্রায় থেমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর ধীরে ধীরে উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করে।

কেন এমন হলো? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুর গায়ে বরফ থাকে। সূর্যের কাছে গেলে এই বরফ গরম হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যেন ছোট ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। সব দিক থেকে সমানভাবে না বের হলে ধূমকেতুর ঘোরার দিক বদলে যেতে পারে।

গবেষক ডেভিড জেউইট বিষয়টি সহজ করে বলেন, যেমন একটি দোলনা একদিকে ঘুরছে, আপনি যদি উল্টো দিকে ঠেলা দেন, তাহলে তা ধীরে হয়ে শেষে উল্টো দিকে ঘুরতে পারে।

এই ধূমকেতুটি আকারে ছোট—প্রায় ১ কিলোমিটার চওড়া (আইফেল টাওয়ারের তিন গুণ উচ্চতার মতো)। ছোট হওয়ায় এর ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও এক চমক—সময় যত যাচ্ছে, এর গ্যাস বের হওয়ার ক্ষমতা কমছে। ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় ১০ গুণ কম সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ, এর বরফ ফুরিয়ে যাচ্ছে বা উপরে ধুলার স্তর জমছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এমন পরিবর্তন হতে শত-হাজার বছর লাগে। কিন্তু ৪১পি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এটি বিজ্ঞানীদের জন্য কম সময়েই মহাকাশের রহস্য বোঝার একটি বড় সুযোগ।