ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

উত্তেজনার মধ্যেই ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনা নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় তিনি জানান, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো থেকে কিছু ‘উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত’ পাওয়া গেছে এবং উভয় পক্ষ ব্যবহারিক কিছু প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে হলেও যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপের কথা উল্লেখ করে জানান, ইরান কেন এখনো তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে ট্রাম্প কৌতূহলী।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন এই অবস্থানের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়, যা ইরানি বিজ্ঞানীরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছেন।

তিনি আরও জানান, পূর্বের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও ভালো কোনো সমঝোতা সম্ভব, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকার নিশ্চয়তার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মধ্যে এই আলোচনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ট্রিতা পার্সি মনে করেন, ইসরাইলি প্রভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের শক্তিকে খাটো করে দেখছে এবং অবাস্তব সব দাবি তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরাইল ক্রমাগতভাবে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস করার জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে। এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ১

উত্তেজনার মধ্যেই ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আপডেট সময় ১১:১০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনা নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় তিনি জানান, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো থেকে কিছু ‘উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত’ পাওয়া গেছে এবং উভয় পক্ষ ব্যবহারিক কিছু প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে হলেও যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপের কথা উল্লেখ করে জানান, ইরান কেন এখনো তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে ট্রাম্প কৌতূহলী।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন এই অবস্থানের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়, যা ইরানি বিজ্ঞানীরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছেন।

তিনি আরও জানান, পূর্বের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও ভালো কোনো সমঝোতা সম্ভব, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকার নিশ্চয়তার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মধ্যে এই আলোচনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ট্রিতা পার্সি মনে করেন, ইসরাইলি প্রভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের শক্তিকে খাটো করে দেখছে এবং অবাস্তব সব দাবি তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরাইল ক্রমাগতভাবে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস করার জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে। এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।