ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা ফেরানোর নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

আতশবাজিবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান থেকে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি গিরিশ এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহন্মুম্বাই পৌরসভাকে ওই ভিডিও বার্তা পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নিজস্ব নির্দেশেই মূলত এই জনসচেতনতামূলক প্রচারটি চালানো হচ্ছিল। বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার এই আচরণ বম্বে হাইকোর্টকে বিচলিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। কিন্তু তা নিয়ে কয়েকজনের মতামতে হাইকোর্ট বিচলিত।

বিচারপতিরা ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ভুললে চলবে না ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।

মুম্বাই শহরের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি ও একতা, যা কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দীপাবলির সময় শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে হাইকোর্টই পৌরসভাকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে পৌরসভা মাধুরী দীক্ষিত, দিয়া মির্জা, নিশিগন্ধা ওয়াড ও অজিঙ্ক রাহানেকে নিয়ে প্রচার শুরু করে। দীপাবলির সময় আতশবাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ বৃদ্ধি ঘটে। বিজেপি–শিবসেনা পরিচালিত পৌরসভা সেই কাজে বেছে নিয়েছিল মাধুরী দীক্ষিত, দিয়া মির্জা, মারাঠি সিনেমার অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াড, ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানেদের মতো সুপরিচিত মানুষদের। নানা পেশার তারকারা বিনা পারিশ্রমিকে সেই কাজে সাহায্যও করেছেন।

তবে মুম্বাইয়ের মেয়র রীতু তাওড়ে এবং বিজেপির মুম্বাই শাখার সভাপতি অমিত সাটমসহ স্থানীয় নেতাদের আপত্তির মুখে পড়ে পৌর কর্তৃপক্ষ দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তাটি সরিয়ে দেয়। আদালত এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। ডিভিশন বেঞ্চের মতে, এটি বিষয়টি নিয়ে অহেতুক সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর অপচেষ্টা মাত্র। দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের ওপর জনগণের আস্থা অটুট রাখতে অবিলম্বে এই বার্তাটি পুনরায় প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার নাম এবং পদবি নিয়ে বিতর্ক তৈরির পেছনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিয়া ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করলেও কেবল তাঁর সৎ বাবার পদবি ‘মির্জা’ হওয়ার কারণে একাংশ তাঁর সচেতনতামূলক বার্তাকে ‘অনধিকার চর্চা’ বলে মনে করছে। হিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত পৌরসভা এই পিছুটান দেয়, যা বম্বে হাইকোর্টের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলে বলেন, ‘যা ঘটেছে তাতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। এ ধরনের জনহিতকর কাজে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ টেনে আনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষই পরিবেশ রক্ষায় এই প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন।’ বিচারপতিরা আরও যোগ করেন, কোনো ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন মন্তব্যের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থে পৌরসভাকে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা উচিত। পৌরসভার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁরা বলেছেন, হিন্দুধর্মীয় পরম্পরায় কী করা উচিত অনুচিত তা নিয়ে কোনো বিধর্মীর কাছ থেকে জ্ঞান নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন জনহিতকর কাজের মধ্যে অন্য কোনো বিষয় টেনে আনার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। উঁচু পদে থাকা মানুষজনের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না।

উল্লেখ্য, দিয়া মির্জার বাবা ছিলেন খ্রিষ্টান এবং মা বাঙালি হিন্দু। তাঁর মা পুনরায় বিয়ে করলে তিনি সৎ বাবার পদবি গ্রহণ করেন। তাঁর উভয় বিয়েও হয়েছে হিন্দু পরিবারে। তবুও কেবল পদবির কারণে তাঁর বার্তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে বিচারকবৃন্দ ‘হঠকারী মন্তব্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দিয়ার জন্মের পর মা–বাবার বিচ্ছেদ ঘটলে দিয়ার মা দীপা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন হায়দরাবাদের মুসলিম তরুণ আহমেদ মীর্জাকে। অথচ জন্ম সূত্রে দিয়া মুসলিম নন। সবচেয়ে বড় কথা, উদ্যোগটা আদালতই নিয়েছেন। বিশিষ্ট মানুষেরা এগিয়ে আসছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

আদালত চূড়ান্ত নির্দেশে পৌর কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দু-একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আপত্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই বাতাসে সবাই শ্বাস নেন, তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করা বা বিশিষ্ট মানুষের মহৎ উদ্যোগকে বিতর্কিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে ভিডিও বার্তাটি ফিরিয়ে এনে পৌরসভাকে জনপরিসরে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা ফেরানোর নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

আপডেট সময় ০৫:১৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আতশবাজিবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান থেকে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি গিরিশ এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহন্মুম্বাই পৌরসভাকে ওই ভিডিও বার্তা পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নিজস্ব নির্দেশেই মূলত এই জনসচেতনতামূলক প্রচারটি চালানো হচ্ছিল। বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার এই আচরণ বম্বে হাইকোর্টকে বিচলিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। কিন্তু তা নিয়ে কয়েকজনের মতামতে হাইকোর্ট বিচলিত।

বিচারপতিরা ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ভুললে চলবে না ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।

মুম্বাই শহরের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি ও একতা, যা কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দীপাবলির সময় শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে হাইকোর্টই পৌরসভাকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে পৌরসভা মাধুরী দীক্ষিত, দিয়া মির্জা, নিশিগন্ধা ওয়াড ও অজিঙ্ক রাহানেকে নিয়ে প্রচার শুরু করে। দীপাবলির সময় আতশবাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ বৃদ্ধি ঘটে। বিজেপি–শিবসেনা পরিচালিত পৌরসভা সেই কাজে বেছে নিয়েছিল মাধুরী দীক্ষিত, দিয়া মির্জা, মারাঠি সিনেমার অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াড, ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানেদের মতো সুপরিচিত মানুষদের। নানা পেশার তারকারা বিনা পারিশ্রমিকে সেই কাজে সাহায্যও করেছেন।

তবে মুম্বাইয়ের মেয়র রীতু তাওড়ে এবং বিজেপির মুম্বাই শাখার সভাপতি অমিত সাটমসহ স্থানীয় নেতাদের আপত্তির মুখে পড়ে পৌর কর্তৃপক্ষ দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তাটি সরিয়ে দেয়। আদালত এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। ডিভিশন বেঞ্চের মতে, এটি বিষয়টি নিয়ে অহেতুক সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর অপচেষ্টা মাত্র। দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের ওপর জনগণের আস্থা অটুট রাখতে অবিলম্বে এই বার্তাটি পুনরায় প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে।

অভিনেত্রী দিয়া মির্জার নাম এবং পদবি নিয়ে বিতর্ক তৈরির পেছনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিয়া ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করলেও কেবল তাঁর সৎ বাবার পদবি ‘মির্জা’ হওয়ার কারণে একাংশ তাঁর সচেতনতামূলক বার্তাকে ‘অনধিকার চর্চা’ বলে মনে করছে। হিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত পৌরসভা এই পিছুটান দেয়, যা বম্বে হাইকোর্টের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলে বলেন, ‘যা ঘটেছে তাতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। এ ধরনের জনহিতকর কাজে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ টেনে আনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষই পরিবেশ রক্ষায় এই প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন।’ বিচারপতিরা আরও যোগ করেন, কোনো ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন মন্তব্যের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থে পৌরসভাকে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা উচিত। পৌরসভার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁরা বলেছেন, হিন্দুধর্মীয় পরম্পরায় কী করা উচিত অনুচিত তা নিয়ে কোনো বিধর্মীর কাছ থেকে জ্ঞান নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন জনহিতকর কাজের মধ্যে অন্য কোনো বিষয় টেনে আনার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। উঁচু পদে থাকা মানুষজনের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না।

উল্লেখ্য, দিয়া মির্জার বাবা ছিলেন খ্রিষ্টান এবং মা বাঙালি হিন্দু। তাঁর মা পুনরায় বিয়ে করলে তিনি সৎ বাবার পদবি গ্রহণ করেন। তাঁর উভয় বিয়েও হয়েছে হিন্দু পরিবারে। তবুও কেবল পদবির কারণে তাঁর বার্তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে বিচারকবৃন্দ ‘হঠকারী মন্তব্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দিয়ার জন্মের পর মা–বাবার বিচ্ছেদ ঘটলে দিয়ার মা দীপা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন হায়দরাবাদের মুসলিম তরুণ আহমেদ মীর্জাকে। অথচ জন্ম সূত্রে দিয়া মুসলিম নন। সবচেয়ে বড় কথা, উদ্যোগটা আদালতই নিয়েছেন। বিশিষ্ট মানুষেরা এগিয়ে আসছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

আদালত চূড়ান্ত নির্দেশে পৌর কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দু-একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আপত্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই বাতাসে সবাই শ্বাস নেন, তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করা বা বিশিষ্ট মানুষের মহৎ উদ্যোগকে বিতর্কিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে ভিডিও বার্তাটি ফিরিয়ে এনে পৌরসভাকে জনপরিসরে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।