ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে না গেলে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনে নারাজ আইসিসি। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বার্তা সংস্থা এএফপির খবর, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হয় তবে তাদের জায়গা নিতে প্রস্তুত স্কটল্যান্ড।

আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী এখন স্কটল্যান্ড।

এদিকে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। এর আগে ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি নিজেদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়। লজিস্টিক জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি এবং কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। সূচি অনুযায়ী তাদের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইতে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তানের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশও একই সুবিধা দাবি করছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বিসিবির সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক এবং বৈধ বলেও অভিহিত করেছে তারা।

বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলের সব ধরনের প্রস্তুতি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি। বোর্ড কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জিও সুপার’এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যদি সম্মানজনক কোনো সমাধান না করতে পারে, তবে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করবে। শুধু তাই নয়, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় সেজন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।

যদিও অতীতে পাকিস্তান কখনই বিশ্বকাপ বয়কট করেনি। এমনকি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ হওয়ার পরও ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান ভারতে গেছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে না যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই দেশ এমওইউ করেছে এই বলে যে পরবর্তী তিন বছরে কেউ কারও দেশে খেলবে না। সে কারণেই এবার টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাকেও সহ-আয়োজক রাখা হয়েছে। সুতরাং এবার বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলতে পারে, তাহলে পাকিস্তান নিজেদের নাম উঠিয়ে নেয় কিনা, সেটা বড় ধরনের প্রশ্ন।

মূলত ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে আইপিএল ইস্যু কেন্দ্র করে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এর জেরে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা বাংলাদেশের। এরপর একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুম্বাইতে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা টাইগারদের। সব মিলিয়ে বুধবারের মধ্যেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে না গেলে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড

আপডেট সময় ০৬:২০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনে নারাজ আইসিসি। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বার্তা সংস্থা এএফপির খবর, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হয় তবে তাদের জায়গা নিতে প্রস্তুত স্কটল্যান্ড।

আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারণ বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী এখন স্কটল্যান্ড।

এদিকে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। এর আগে ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি নিজেদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়। লজিস্টিক জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি এবং কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। সূচি অনুযায়ী তাদের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইতে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তানের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশও একই সুবিধা দাবি করছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বিসিবির সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক এবং বৈধ বলেও অভিহিত করেছে তারা।

বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলের সব ধরনের প্রস্তুতি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি। বোর্ড কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জিও সুপার’এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যদি সম্মানজনক কোনো সমাধান না করতে পারে, তবে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করবে। শুধু তাই নয়, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেয় সেজন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।

যদিও অতীতে পাকিস্তান কখনই বিশ্বকাপ বয়কট করেনি। এমনকি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ হওয়ার পরও ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান ভারতে গেছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে না যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই দেশ এমওইউ করেছে এই বলে যে পরবর্তী তিন বছরে কেউ কারও দেশে খেলবে না। সে কারণেই এবার টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাকেও সহ-আয়োজক রাখা হয়েছে। সুতরাং এবার বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলতে পারে, তাহলে পাকিস্তান নিজেদের নাম উঠিয়ে নেয় কিনা, সেটা বড় ধরনের প্রশ্ন।

মূলত ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে আইপিএল ইস্যু কেন্দ্র করে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এর জেরে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা বাংলাদেশের। এরপর একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুম্বাইতে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা টাইগারদের। সব মিলিয়ে বুধবারের মধ্যেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য।