ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মহাকাশের গ্রহাণু থেকে সম্পদ আহরণ কতটা সম্ভব, কী বলছে বিজ্ঞান

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহাণু এত দিন ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্পের অশ। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে বাস্তবভাবে বিবেচনা করছেন। তাদের প্রশ্ন এই গ্রহাণু থেকে কি ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদ আহরণ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অনেক গ্রহাণুর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধাতু ও খনিজ। এর মধ্যে প্লাটিনাম, সোনা, লোহা এবং পানি উল্লেখযোগ্য। পানি ভবিষ্যতে মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গ্রহাণুতে এমন পরিমাণ খনিজ আছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি দল। তারা বিশেষভাবে সি-টাইপ গ্রহাণু (কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু) নিয়ে কাজ করেছেন। জানা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনের। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি সাময়িকীতে।

গবেষকেরা বলছেন, এসব গ্রহাণু সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহন করে। এগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মহাকাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। বিশেষ করে পানি-সমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। এই পানি জ্বালানি কিংবা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের মূল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় বাধাও রয়েছে। গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখান থেকে সম্পদ উত্তোলন এবং পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করা—সবকিছুই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখনো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর সঙ্গে রয়েছে আইনি জটিলতা। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, কোনো দেশ মহাকাশের কোনো বস্তু নিজের বলে দাবি করতে পারে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মহাকাশের গ্রহাণু থেকে সম্পদ আহরণ কতটা সম্ভব, কী বলছে বিজ্ঞান

আপডেট সময় ১০:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহাণু এত দিন ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্পের অশ। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে বাস্তবভাবে বিবেচনা করছেন। তাদের প্রশ্ন এই গ্রহাণু থেকে কি ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদ আহরণ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অনেক গ্রহাণুর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধাতু ও খনিজ। এর মধ্যে প্লাটিনাম, সোনা, লোহা এবং পানি উল্লেখযোগ্য। পানি ভবিষ্যতে মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গ্রহাণুতে এমন পরিমাণ খনিজ আছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি দল। তারা বিশেষভাবে সি-টাইপ গ্রহাণু (কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু) নিয়ে কাজ করেছেন। জানা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনের। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি সাময়িকীতে।

গবেষকেরা বলছেন, এসব গ্রহাণু সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহন করে। এগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মহাকাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। বিশেষ করে পানি-সমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। এই পানি জ্বালানি কিংবা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের মূল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় বাধাও রয়েছে। গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখান থেকে সম্পদ উত্তোলন এবং পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করা—সবকিছুই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখনো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর সঙ্গে রয়েছে আইনি জটিলতা। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, কোনো দেশ মহাকাশের কোনো বস্তু নিজের বলে দাবি করতে পারে না।