ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩ নির্বাচন বানচালে সীমান্তের ওপারে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: আদিলুর রহমান উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন ভারতের দালাল পাকিস্তানের দালাল, এসব বলা বাদ দিতে হবে: (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করছে : টুকু ঋণের বিনিময়ে যুদ্ধবিমান লেনদেনে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান ‘দুষ্কৃতকারীরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত’: মির্জা ফখরুল আজকের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হবে আগামী ১০ বছর: তামিম ইকবাল নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে : ইইউ পর্যবেক্ষণ প্রধান ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ

মহাকাশের গ্রহাণু থেকে সম্পদ আহরণ কতটা সম্ভব, কী বলছে বিজ্ঞান

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহাণু এত দিন ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্পের অশ। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে বাস্তবভাবে বিবেচনা করছেন। তাদের প্রশ্ন এই গ্রহাণু থেকে কি ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদ আহরণ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অনেক গ্রহাণুর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধাতু ও খনিজ। এর মধ্যে প্লাটিনাম, সোনা, লোহা এবং পানি উল্লেখযোগ্য। পানি ভবিষ্যতে মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গ্রহাণুতে এমন পরিমাণ খনিজ আছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি দল। তারা বিশেষভাবে সি-টাইপ গ্রহাণু (কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু) নিয়ে কাজ করেছেন। জানা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনের। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি সাময়িকীতে।

গবেষকেরা বলছেন, এসব গ্রহাণু সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহন করে। এগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মহাকাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। বিশেষ করে পানি-সমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। এই পানি জ্বালানি কিংবা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের মূল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় বাধাও রয়েছে। গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখান থেকে সম্পদ উত্তোলন এবং পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করা—সবকিছুই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখনো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর সঙ্গে রয়েছে আইনি জটিলতা। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, কোনো দেশ মহাকাশের কোনো বস্তু নিজের বলে দাবি করতে পারে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩

মহাকাশের গ্রহাণু থেকে সম্পদ আহরণ কতটা সম্ভব, কী বলছে বিজ্ঞান

আপডেট সময় ১০:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহাণু এত দিন ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্পের অশ। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে বাস্তবভাবে বিবেচনা করছেন। তাদের প্রশ্ন এই গ্রহাণু থেকে কি ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদ আহরণ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অনেক গ্রহাণুর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধাতু ও খনিজ। এর মধ্যে প্লাটিনাম, সোনা, লোহা এবং পানি উল্লেখযোগ্য। পানি ভবিষ্যতে মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গ্রহাণুতে এমন পরিমাণ খনিজ আছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি দল। তারা বিশেষভাবে সি-টাইপ গ্রহাণু (কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু) নিয়ে কাজ করেছেন। জানা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনের। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি সাময়িকীতে।

গবেষকেরা বলছেন, এসব গ্রহাণু সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহন করে। এগুলোর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, মহাকাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। বিশেষ করে পানি-সমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। এই পানি জ্বালানি কিংবা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের মূল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় বাধাও রয়েছে। গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখান থেকে সম্পদ উত্তোলন এবং পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করা—সবকিছুই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখনো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর সঙ্গে রয়েছে আইনি জটিলতা। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, কোনো দেশ মহাকাশের কোনো বস্তু নিজের বলে দাবি করতে পারে না।