আকাশ নিউজ ডেস্ক :
গরম চুলায় হাত পড়লে মানুষ সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেয়। তখন মস্তিষ্কে ভাবার আগেই শরীর প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারণ ত্বকের ব্যথা অনুভবকারী স্নায়ু সরাসরি সংকেত পাঠায় মেরুদণ্ডে। এবার বিজ্ঞানীরা সেই একই ক্ষমতা দিতে চলেছেন রোবটকে।
হংকংয়ের সিটি ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এমন একটি উন্নত কৃত্রিম ত্বক (আর্টিফিশিয়াল স্কিন) তৈরি করেছেন, যা স্পর্শ, আঘাত এমনকি ব্যথাও বুঝতে পারে। শুধু তাই নয়, বিপদ টের পেলেই রোবট নিজে থেকেই দ্রুত সরে যেতে পারে। এর জন্য আলাদা করে মূল কম্পিউটারের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয় না।
গবেষকদের ভাষায়, এই নতুন ‘নিউরোমর্ফিক রোবটিক ই-স্কিন’ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের আদলে তৈরি। সাধারণ রোবটিক ত্বক যেখানে শুধু চাপ বা স্পর্শ বুঝতে পারে, সেখানে এই ত্বক খুব হালকা স্পর্শ এবং ক্ষতিকর আঘাত—দু’টিই আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। ক্ষতিকর স্পর্শকে রোবট ‘ব্যথা’ হিসেবে বোঝে।
এই ত্বকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা। মানুষের মতোই, বিপদ বুঝলেই রোবট দ্রুত হাত বা শরীর সরিয়ে নেয়। এতে মানুষ-রোবট একসঙ্গে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। বিশেষ করে হাসপাতাল, সেবা খাত বা ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় কাজে লাগবে এই প্রযুক্তি।
রোবট মানুষের মতো নিজে নিজে সেরে উঠতে পারে না। তাই গবেষকেরা বিকল্প সমাধান হিসেবে ত্বককে ছোট ছোট অংশে (মডিউল) ভাগ করেছেন। কোনো অংশ কেটে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি সহজেই বদলানো যাবে। প্রতিটি অংশ নিয়মিত সংকেত পাঠায় যে সেটি ঠিক আছে। সংকেত বন্ধ হলেই রোবট বুঝে নেয় কোথায় ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের মানবসদৃশ রোবট তৈরির পথে বড় অগ্রগতি। এতে রোবট হবে আরও নিরাপদ, সংবেদনশীল এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















