ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল

ইসলামে বর্ণবাদী কোনো আচরণ নেই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শান্তির ধর্ম ইসলামে বর্ণবাদী কোনো আচরণ নেই। সাদা-কালোয়, ধনী-গরিবে, উঁচু-নিচুতে কোনো তারতম্য কিংবা শ্রেষ্ঠ-নিকৃষ্টের পার্থক্য করেনি ইসলাম এবং এগুলো ভালো-মন্দের কোনো মানদন্ডও নয়।

নবীজি (সা.) বলেছেন, কৃষ্ণের ওপরে শেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, হে লোক সকল, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহতায়ালার কাছে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে।

এখানে নবীজি (সা.) কতো স্পষ্ট করে বলে দিলেন, মানুষ বাহ্যত যতো সুন্দরই হোক, তার মধ্যে যদি আমল না থাকে, আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও রাসুলের আদর্শ না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে সে অন্য আর দশজনের মতই। শ্রেষ্ঠ কেবল সে-ই, যে আমলে উত্তীর্ণ। এছাড়া সবাই সমান।

পবিত্র কোরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে, হে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালার কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত, যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন। (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেও প্রতীয়মান হয়। অন্যান্য ধর্ম যেখানে বর্ণের আচরণের আহ্বান করে, সেখানে ইসলাম তা প্রত্যাখান করে।

মুয়াজ্জিনে রাসুল কৃষ্ণাঙ্গ হজরত বেলাল (রা.) কোনো মুসলমানের কাছে অবজ্ঞার পাত্র হননি। একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়ায় এবং অধিকতর আমল করায় তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের আসনে ভূষিত হয়েছিলেন।

নবীজি (সা.) বলেছেন, আমি মে’রাজে জান্নাতের মধ্যে বেলালের পদধ্বনি শুনতে পেয়েছি।

ইসলামের এমন উদারতা ও উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অনেক বিধর্মীরাও এই ধর্মের প্রতি অবলীলায় নিজের ভালো লাগা ও মুগ্ধতার কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

বিখ্যাত ইংরেজ পণ্ডিত জর্জ বার্নার্ড শ ইসলাম ও নবীজি (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘চমৎকার প্রাণবন্ততার কারণে মোহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, আমি মোহাম্মদকে নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করেছি। তিনি অতি চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিষ্টানবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে’। (Sir George Bernard Shaw, ÔThe Genuine IslamÕ, Vol. 1, No. 8, 1936)

আসলেও তাই, নবীজি (সা.) উদারতার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। হিংসা-বৈষম্যকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছেন। কারণ, মানুষের আচরণে যখন বর্ণবাদ এবং সাদা ও কালোর ভেদাভেদ চলে আসে, তখনই সমাজ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার টুকুও হারাতে থাকে।

তাই আসুন, আমরা সাদাকালোর ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইসলামের ছায়াতলে শান্তি ও শৃঙ্খলার সমাজ বিনির্মাণে ব্রত হই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকায় শুরু হলো ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার

ইসলামে বর্ণবাদী কোনো আচরণ নেই

আপডেট সময় ০৮:১৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শান্তির ধর্ম ইসলামে বর্ণবাদী কোনো আচরণ নেই। সাদা-কালোয়, ধনী-গরিবে, উঁচু-নিচুতে কোনো তারতম্য কিংবা শ্রেষ্ঠ-নিকৃষ্টের পার্থক্য করেনি ইসলাম এবং এগুলো ভালো-মন্দের কোনো মানদন্ডও নয়।

নবীজি (সা.) বলেছেন, কৃষ্ণের ওপরে শেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, হে লোক সকল, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহতায়ালার কাছে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে।

এখানে নবীজি (সা.) কতো স্পষ্ট করে বলে দিলেন, মানুষ বাহ্যত যতো সুন্দরই হোক, তার মধ্যে যদি আমল না থাকে, আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও রাসুলের আদর্শ না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে সে অন্য আর দশজনের মতই। শ্রেষ্ঠ কেবল সে-ই, যে আমলে উত্তীর্ণ। এছাড়া সবাই সমান।

পবিত্র কোরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে, হে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালার কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত, যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন। (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেও প্রতীয়মান হয়। অন্যান্য ধর্ম যেখানে বর্ণের আচরণের আহ্বান করে, সেখানে ইসলাম তা প্রত্যাখান করে।

মুয়াজ্জিনে রাসুল কৃষ্ণাঙ্গ হজরত বেলাল (রা.) কোনো মুসলমানের কাছে অবজ্ঞার পাত্র হননি। একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়ায় এবং অধিকতর আমল করায় তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের আসনে ভূষিত হয়েছিলেন।

নবীজি (সা.) বলেছেন, আমি মে’রাজে জান্নাতের মধ্যে বেলালের পদধ্বনি শুনতে পেয়েছি।

ইসলামের এমন উদারতা ও উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অনেক বিধর্মীরাও এই ধর্মের প্রতি অবলীলায় নিজের ভালো লাগা ও মুগ্ধতার কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

বিখ্যাত ইংরেজ পণ্ডিত জর্জ বার্নার্ড শ ইসলাম ও নবীজি (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘চমৎকার প্রাণবন্ততার কারণে মোহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, আমি মোহাম্মদকে নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করেছি। তিনি অতি চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিষ্টানবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে’। (Sir George Bernard Shaw, ÔThe Genuine IslamÕ, Vol. 1, No. 8, 1936)

আসলেও তাই, নবীজি (সা.) উদারতার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। হিংসা-বৈষম্যকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছেন। কারণ, মানুষের আচরণে যখন বর্ণবাদ এবং সাদা ও কালোর ভেদাভেদ চলে আসে, তখনই সমাজ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার টুকুও হারাতে থাকে।

তাই আসুন, আমরা সাদাকালোর ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইসলামের ছায়াতলে শান্তি ও শৃঙ্খলার সমাজ বিনির্মাণে ব্রত হই।