ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

কিয়ামতের ময়দানে নবীজি (সা.) যেভাবে তার উম্মতকে চিনবেন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিয়ামতের দিন হবে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। সেই কঠিন মুহূর্তে প্রত্যেক মুমিনের সবচেয়ে বড় আশা হবে প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করা এবং তার শাফাআত পাওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো—অগণিত মানুষের ভিড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকে কীভাবে চিনবেন?

এ বিষয়ে কুরআন ও সহিহ হাদিস উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য রয়েছে এক অপূর্ব সুসংবাদ। যারা নিয়মিত ওজু করে নামাজ আদায় করবে, তাদের ওজুর অঙ্গগুলো কিয়ামতের দিন নূরে উদ্ভাসিত থাকবে। সেই উজ্জ্বলতার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতদেরকে চিনে নেবেন।

কুরআনের নির্দেশ: পবিত্রতার মাধ্যমে ইবাদতের প্রস্তুতি

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ…

‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর, কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত কর…।’ (সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওজু শুধু নামাজের পূর্বশর্তই নয়; বরং এটি ইমানদারের পরিচ্ছন্নতা, আনুগত্য ও ইবাদতের প্রস্তুতির প্রতীক।

কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল অঙ্গসমূহ হবে উম্মতের পরিচয়:

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ

‘আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন ওজুর প্রভাবে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা নিয়ে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার এই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।’ (বুখারি ১৩৬, মুসলিম ২৪৬)

এ হাদিসে ‘গুররান মুহাজ্জালীন’ বলতে ওযুর অঙ্গসমূহের নূর বা উজ্জ্বলতাকে বোঝানো হয়েছে, যা কিয়ামতের দিন ইমানদারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হবে।

হাউজে কাওসারের ধারে নবীজি (সা.)-এর অপেক্ষা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—

أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ

‘আমি হাউজে কাওসারের কাছে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব (এবং তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব)।’ (বুখারি ৬৫৭৫, মুসলিম ২২৯৬)

তিনি তার উম্মতকে সেই হাউজের ধারে স্বাগত জানাবেন এবং ওজুর নূরের মাধ্যমেই তাদের চিনতে পারবেন।

আমাদের করণীয়:

#পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যত্নসহকারে ওজু করা।
#সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ওজু আদায় করা।
#সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
#ওজুর মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া।
#এমন জীবন গঠন করা, যাতে কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে তার পরিচয়ে ধন্য হতে পারি।

ওজু কেবল শরীর পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি একজন মুমিনের ঈমান, ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতীক। এই ওজুর বরকতেই কিয়ামতের দিন আমাদের মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নূরে উদ্ভাসিত হবে এবং সেই নূর দেখেই প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) তার উম্মতদের চিনে নেবেন। তাই আসুন, আমরা ওজুর প্রতি আরও যত্নবান হই, সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি এবং এমন আমল করি, যাতে কিয়ামতের সেই মহাসমাবেশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচিত ও সৌভাগ্যবান উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওজুর হিফাজতকারী, নামাজের প্রতি যত্নবান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআতপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

কিয়ামতের ময়দানে নবীজি (সা.) যেভাবে তার উম্মতকে চিনবেন

আপডেট সময় ০৫:১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিয়ামতের দিন হবে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। সেই কঠিন মুহূর্তে প্রত্যেক মুমিনের সবচেয়ে বড় আশা হবে প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করা এবং তার শাফাআত পাওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো—অগণিত মানুষের ভিড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকে কীভাবে চিনবেন?

এ বিষয়ে কুরআন ও সহিহ হাদিস উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য রয়েছে এক অপূর্ব সুসংবাদ। যারা নিয়মিত ওজু করে নামাজ আদায় করবে, তাদের ওজুর অঙ্গগুলো কিয়ামতের দিন নূরে উদ্ভাসিত থাকবে। সেই উজ্জ্বলতার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতদেরকে চিনে নেবেন।

কুরআনের নির্দেশ: পবিত্রতার মাধ্যমে ইবাদতের প্রস্তুতি

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ…

‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর, কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত কর…।’ (সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওজু শুধু নামাজের পূর্বশর্তই নয়; বরং এটি ইমানদারের পরিচ্ছন্নতা, আনুগত্য ও ইবাদতের প্রস্তুতির প্রতীক।

কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল অঙ্গসমূহ হবে উম্মতের পরিচয়:

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ

‘আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন ওজুর প্রভাবে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা নিয়ে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার এই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।’ (বুখারি ১৩৬, মুসলিম ২৪৬)

এ হাদিসে ‘গুররান মুহাজ্জালীন’ বলতে ওযুর অঙ্গসমূহের নূর বা উজ্জ্বলতাকে বোঝানো হয়েছে, যা কিয়ামতের দিন ইমানদারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হবে।

হাউজে কাওসারের ধারে নবীজি (সা.)-এর অপেক্ষা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—

أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ

‘আমি হাউজে কাওসারের কাছে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব (এবং তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব)।’ (বুখারি ৬৫৭৫, মুসলিম ২২৯৬)

তিনি তার উম্মতকে সেই হাউজের ধারে স্বাগত জানাবেন এবং ওজুর নূরের মাধ্যমেই তাদের চিনতে পারবেন।

আমাদের করণীয়:

#পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যত্নসহকারে ওজু করা।
#সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ওজু আদায় করা।
#সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
#ওজুর মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া।
#এমন জীবন গঠন করা, যাতে কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে তার পরিচয়ে ধন্য হতে পারি।

ওজু কেবল শরীর পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি একজন মুমিনের ঈমান, ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতীক। এই ওজুর বরকতেই কিয়ামতের দিন আমাদের মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নূরে উদ্ভাসিত হবে এবং সেই নূর দেখেই প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) তার উম্মতদের চিনে নেবেন। তাই আসুন, আমরা ওজুর প্রতি আরও যত্নবান হই, সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি এবং এমন আমল করি, যাতে কিয়ামতের সেই মহাসমাবেশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচিত ও সৌভাগ্যবান উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওজুর হিফাজতকারী, নামাজের প্রতি যত্নবান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআতপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।