আকাশ আইসিটি ডেস্ক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে দেশি-বিদেশি ৯টি কোম্পানি প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য প্লট বরাদ্দ পেয়েছে। যেখানে প্রায় ২৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যে ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে তাদের প্লট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়।
আগামী ৪০ বছরের জন্য বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বিনিয়োগের সুযোগ পেল রবি আজিয়াটা, জেনেক্স, বিজেআইটি সফটওয়্যার, ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স, কেডিএস গ্রুপ, ইন্টারক্লাউড, বিজনেস অটোমেশন, নাজডাক টেকনোলজিস এবং জেআর এন্টারপ্রাইজ।
তথ্যপ্রযুক্তি সচিব জুয়েনা আজিজের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে হাইটেক পার্কের এমডি হোসনে আরা বেগম কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তির স্মারক বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতায় নির্মিত-নির্মিতব্য হাইটেক পার্কগুলোয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে লন্ডনে সেমিনার, রোডশোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, হাইটেক পার্কে জায়গা বরাদ্দ পাওয়া বিনিয়োগকারীরা যেন দ্রুত বিল্ডিং বানাতে পারে, কাজ শুরু করতে পারে সে জন্য আর্থিক প্রণোদনাসহ যাবতীয় সব কিছু প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ঠিক করে দিয়েছেন।
এখানে সব ইকোসিস্টেম এখন প্রস্তুত মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের তিন বছরের সময়ের জন্য অপেক্ষায় না থেকে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’ বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ফ্লাগশিপ প্রকল্প। এ পার্কে প্রায় এক লাখ লোকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। হাইটেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কগুলো সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি পণ্য রফতানির মূল কেন্দ্র হয়ে গড়ে উঠবে। ইতিমধ্যে জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক থেকে বিভিন্ন কোম্পানি বিদেশে সফটওয়্যার রফতানি করছে।’ হাইটেক পার্কে কোম্পানিগুলোর এই যে বিনিয়োগ সেখানে পরোক্ষভাবে সরকারও অংশগ্রহণ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হয়তো কোম্পানিগুলোর একটা জায়গা কিনতে ২০০ কোটি টাকা লাগত সেটা এখানে দিতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, এক সময় এই হাইটেক পার্কে জায়গা নেয়ার জন্য সবাই লাইন দেবে। তখন হয়তো আর জায়গা দেয়া যাবে না।
এ ৯টি প্রতিষ্ঠান এখানে বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ২০ একর জমিতে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, আইওটি, বিপিও, ট্রেনিং সেন্টার, ডাটা সেন্টার, আরঅ্যান্ডডি উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে। কোম্পানিগুলো এখানে প্রায় ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে হাইটেক পার্কটিতে রবি ১১০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে, সামস্যাং ২৫০ জনের, বিজেআইটি ৪ হাজার জনের, কেডিএস ৫ হাজার জনের, ইন্টারক্লাউড ৭৭০ জনের, জেনেক্স ১০ হাজার জনের, নাজডাক ৩ হাজার ৬০০ জনের, জেআর ১১০ জনের এবং বিজনেস অটোমেশন ১০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























