ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কোটা নিয়ে সিদ্ধান্তে কমিটি, প্রতিবেদন ১৫ দিনে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি করেছে সরকার। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারির বিষয়ে আন্দোলনকারীদের আবার মাঠে নামার ‍হুমকি, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই কমিটি গঠন করে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও অর্থ সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবকে সদস্য করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মাঠে নামে ছাত্ররা।

এর আগেও নানা সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের চেষ্টা করেছে জামায়াত-শিবির অনুসারীরা। সেই আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোটা আন্দোলনকারীরা কোনো কোটোর নাম না বলে সংস্কারের দাবিতে মাঠে নামে।

তার এপ্রিলে তিন দিনের তুমুল আন্দোলনের মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, কোটা সংস্কার নয়, কোনো কোটাই থাকবে না।

আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতে ভূষিত করে। আর সেই দিন থেকে আন্দোলনকারীরা প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

সবশেষ গত ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, কোটা থাকবে না। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে এবং এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি কীভাবে বাতিল করা যায়, সে বিষয়ে ওই কমিটি প্রতিবেদন দিলে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে।

এর মধ্যে কোটা আন্দোলনের এক নেতা রাশেদ খাঁন ফেসবুক লাইভে এসে ‘রক্ত গরম হয়ে গেছে’, ‘আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, ‘মনে হচ্ছে, তার বাপের দেশ’, ‘প্রবসীদের রেমিটেন্স ভিন্নখাতে ব্যবহার হচ্ছে’ ইত্যাদি বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে অভিযোগ করা হয়, রাশেদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আর পরদিন রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

কথা ছিল গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ‘কঠোর কর্মসূচি’ ঘোষণা হবে। কিন্তু তার আগেই হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। দুই দিন পর সোমবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও পেটানো হয় শিক্ষার্থীদেরকে। আবার একই দিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়া হয় রাশেদ খাঁনকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কোটা নিয়ে সিদ্ধান্তে কমিটি, প্রতিবেদন ১৫ দিনে

আপডেট সময় ১১:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি করেছে সরকার। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারির বিষয়ে আন্দোলনকারীদের আবার মাঠে নামার ‍হুমকি, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই কমিটি গঠন করে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও অর্থ সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবকে সদস্য করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মাঠে নামে ছাত্ররা।

এর আগেও নানা সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের চেষ্টা করেছে জামায়াত-শিবির অনুসারীরা। সেই আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোটা আন্দোলনকারীরা কোনো কোটোর নাম না বলে সংস্কারের দাবিতে মাঠে নামে।

তার এপ্রিলে তিন দিনের তুমুল আন্দোলনের মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, কোটা সংস্কার নয়, কোনো কোটাই থাকবে না।

আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতে ভূষিত করে। আর সেই দিন থেকে আন্দোলনকারীরা প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

সবশেষ গত ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, কোটা থাকবে না। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে এবং এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি কীভাবে বাতিল করা যায়, সে বিষয়ে ওই কমিটি প্রতিবেদন দিলে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে।

এর মধ্যে কোটা আন্দোলনের এক নেতা রাশেদ খাঁন ফেসবুক লাইভে এসে ‘রক্ত গরম হয়ে গেছে’, ‘আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, ‘মনে হচ্ছে, তার বাপের দেশ’, ‘প্রবসীদের রেমিটেন্স ভিন্নখাতে ব্যবহার হচ্ছে’ ইত্যাদি বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে অভিযোগ করা হয়, রাশেদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আর পরদিন রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

কথা ছিল গত ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ‘কঠোর কর্মসূচি’ ঘোষণা হবে। কিন্তু তার আগেই হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। দুই দিন পর সোমবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও পেটানো হয় শিক্ষার্থীদেরকে। আবার একই দিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়া হয় রাশেদ খাঁনকে।