অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
চার তলার বারান্দার সঙ্গে ঝুলতে থাকা চার বছরের একটি শিশুকে বাঁচাতে বাস্তবের স্পাইডারম্যান হয়েছিলেন মামোউডু গাচ্সামা নামের এক যুবক। নিচতলা থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চার তলায় পৌঁছে যান তিনি। তারপর শিশুটিকে বারান্দায় টেনে তোলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর প্যারিসে। নিজের কোনো নিরাপত্তার কথা না চিন্তা করে শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য মামোউডুর এমন কাজের প্রশংসা করছেন সবাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ উদ্ধারকাজের ছোট্ট ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন মানুষ দেখেছে। খবর গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজের।
আর এমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ভাগ্য খুলে গেছে গাচ্সামির। কারণ কয়েক মাস আগে মালি থেকে আসা গাচ্সামির ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র অ্যানি হিডলগো। আর তাকে সম্মান জানানোর জন্য নিজ কার্যালয়ে ডেকেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ২২ বছরের গাচ্সামা চার তলার বারান্দায় শিশুকে ঝুলতে দেখে নিচ থেকে বারান্দা ধরে ধরে চার তলায় পৌঁছে যান। তারপর বাচ্চাটিকে টেনে তোলেন। আর একাজটি করতে তার লেগেছে মাত্র ৩৫ সেকেন্ড।
ঘটনার সময় শিশুটির মা বাবা কেউই বাসায় ছিলেন না। আর একই সময় শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য পাশের ফ্লাটের এক ব্যক্তি চেষ্টা করছিলেন। তবে বারান্দার মাঝে বাধা থাকায় তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারছিলেন না।
উদ্ধারকর্মীরা এসে দেখেন যে শিশুটিকে ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র বলেন, ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন শারীরিকভাবে ফিট ব্যক্তি ছিলেন। যার প্রচণ্ড সাহাসের কারণে তিনি শিশুটিকে তুলতে পেরেছেন।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর এ বিষয়ে গাচ্সামা বলেন, ‘আমি এ কাজটি করেছি কোনো চিন্তা না করেই। আমি দেখি যে সবাই শুধু চিৎকার করছে এবং গাড়িগুলো তাদের হর্ন বাজাচ্ছে। ঠিক তখনই আমি বিল্ডিংয়ের বারান্দা দিয়ে উপরে উঠেছি। এবং ইশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি বাচ্চাটিকে রক্ষা করতে পেরেছি।’
তবে শিশুটিকে বাঁচানোর পর বিল্ডিং বেয়ে ওঠায় ভীত হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিশুটিকে উদ্ধারের পর ভয় পেয়েছিলাম। আমরা শোয়ার ঘরে গিয়েছিলাম এবং আমার শরীর কাঁপছিল। আমি দাঁড়ানো থেকে বসে পড়েছিলাম।’
গাচ্সামার এমন কাজকে ‘সাহসিকতার পরিচয়’ বলে মন্তব্য করেন প্যারিসের মেয়র অ্যানি হিডলগো। তিনি এক টুইট বার্তায় তাকে ‘১৮ সালের স্পাইডারম্যান’ উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান।
প্যারিসের মেয়র জানান, ‘আমার কাছে সে জানিয়েছে যে, সে মালি থেকে কয়েক মাস আগে এসেছে এবং এখানে সে স্থায়ী হতে চায়। আমি তাকে বলেছি- তার নায়কোচিত কাজ সকল নাগরিকের জন্য উদাহরণ। এবং তাকে ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্যি এরই মধ্যে ভিডিওটি দেখেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই সাহসিকতার জন্য সম্মান জানাতে গাচ্সামিকে সোমবার সরকারি বাসভবনে ডেকেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























