ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

২০২৫ সালে চীনের জন্মহার সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দেশটির জনসংখ্যাকে টানা চতুর্থ বছরের মতো হ্রাসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সোমবারের (১৯ জানুয়ারি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১,০০০ জনে জন্মহার কমে ৫.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের রেকর্ড ৬.৩৯ শতাংশের চেয়েও কম।

যদিও ২০২৪ সালে জন্মহারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে সেটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান ছিল না। গত বছর দেশটিতে মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করলেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১.৩১ মিলিয়ন, যার ফলে চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কমে এখন ১.৪ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

জনসংখ্যার এই নেতিবাচক পরিবর্তন দেশটির শ্রমশক্তি কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকটের বিপরীতে চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সালে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত রপ্তানির ব্যাপক উল্লম্ফন এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বল ভোগব্যয় সত্ত্বেও এই সাফল্য এসেছে।

গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে ৪.৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই এই ফলাফলকে ‘উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চিন উচ্চ-মানের উন্নয়ন বজায় রেখেছে।

চীন সরকার জন্মহার বাড়াতে শিশু ভাতা, আবাসন সহায়তায় কর ছাড় এবং বিনামূল্যে প্রাক-স্কুল শিক্ষার মতো নানা পদক্ষেপ নিলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তান নেওয়ার আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চাপের কারণে অনেকেই পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করছেন।

অন্যদিকে আবাসন খাতের মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রাহকদের খরচ করার প্রবণতা কমে যাওয়া চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক টেকসইতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীনকে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন

আপডেট সময় ১০:৪০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

২০২৫ সালে চীনের জন্মহার সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দেশটির জনসংখ্যাকে টানা চতুর্থ বছরের মতো হ্রাসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সোমবারের (১৯ জানুয়ারি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১,০০০ জনে জন্মহার কমে ৫.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের রেকর্ড ৬.৩৯ শতাংশের চেয়েও কম।

যদিও ২০২৪ সালে জন্মহারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে সেটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান ছিল না। গত বছর দেশটিতে মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করলেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১.৩১ মিলিয়ন, যার ফলে চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩.৩৯ মিলিয়ন কমে এখন ১.৪ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

জনসংখ্যার এই নেতিবাচক পরিবর্তন দেশটির শ্রমশক্তি কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকটের বিপরীতে চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সালে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত রপ্তানির ব্যাপক উল্লম্ফন এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বল ভোগব্যয় সত্ত্বেও এই সাফল্য এসেছে।

গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে ৪.৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই এই ফলাফলকে ‘উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চিন উচ্চ-মানের উন্নয়ন বজায় রেখেছে।

চীন সরকার জন্মহার বাড়াতে শিশু ভাতা, আবাসন সহায়তায় কর ছাড় এবং বিনামূল্যে প্রাক-স্কুল শিক্ষার মতো নানা পদক্ষেপ নিলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তান নেওয়ার আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি চাপের কারণে অনেকেই পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করছেন।

অন্যদিকে আবাসন খাতের মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রাহকদের খরচ করার প্রবণতা কমে যাওয়া চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক টেকসইতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীনকে রপ্তানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ভোগব্যয় বাড়ানোর দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।