ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইহুদি হয়েও আমি কেন ইসরাইল বর্জনের পক্ষে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা জিউস ভয়েজ ফর পিসের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা ভিলকোমারসন একজন ইহুদি। ইহুদি হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি বিশ্ববাসীকে ইসরাইল রাষ্ট্র বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে এ আহ্বান জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন এই মানবাধিকার কর্মী। নিবন্ধটি হুবহু তার ভাষায় তুলে ধরা হলো:

২০০৯ সালে ‘অপারেশন কাস্ট’ চলার সময় আমি তেলআবিবে বাস করতাম। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে চালানো ওই অপারেশনে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা অল্প কিছু লোক রাস্তায় নামলে তেলআবিবের সাধারণ নাগরিকরা আমাদের ডিম ছুঁড়ে ও হামলার ভয় দেখিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

এর পরদিন আমি আমার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে উপস্থিত অভিভাবকদের দেখে অবাক হয়ে যাই। তারা এমন আচরণ করে যেন কিছুই হয়নি। যখন তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে, আমি তাদের বলি মাত্র ৪০ মাইল দূরে যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে তা আমি মানতে পারছি না। এসময় তারা হয়তো রহস্যময়ভাবে নীরব হয়ে যায় অথবা ক্রোধের সাথে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমাকে তিরস্কার করে।

এ অবস্থায় আমি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ও অধিকারের জন্য শক্ত অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আর তাই আমি ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হই। এটি একটি অহিংস আন্দোলন। ২০০৫ সালে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী জনগণের সাথে একাত্মতা পোষণ করে ইসরাইলী দখলদারিত্বের অবসান দাবিতে সারা বিশ্বের মানবতাবাদীরা এ আন্দোলন শুরু করে। তবে ‘বিডিএস’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনও এখন সরকারি রোষানলের শিকার। আমার নিজ স্টেট নিউইয়র্কের আদালতও এই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অনুমতি প্রদান করেছে।

এর ৭ বছর পর গাজা ভূখণ্ডে আরো দু’টি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০১৪ সালের ওই হামলায় কমপক্ষে ৫০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এমনকি বোমা হামলার প্রাদুর্ভাব না থাকলেও গাজাবাসীকে জীবন রক্ষার্থে সারা বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়। পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত চেকপয়েন্ট, প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। ইসরাইলের অভ্যন্তরে যেসব ফিলিস্তিনি ইসরাইলের নাগরিকত্ব নিয়ে অবস্থান করে তাদের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি প্রয়োগ করা হয়। সবক্ষেত্রেই এসব হতভাগ্য ফিলিস্তিনিরা হন বঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত।

আমি জানি, বর্হিবিশ্বের চাপ সহ্য করা অসম্ভব না হলে ইসরাইল তার ফিলিস্তিন নীতি কখনো পরিবর্তন করবে না। বিডিএস নামের ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলন এরকম একটি চাপ। ইসরাইলের প্রতি অব্যাহত বর্জন ও নিষেধাজ্ঞার দাবি দেশটির শাসকদের মনে ভীতি ধরিয়েছে। ২০০৫ সালে আন্দোলনটি শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলিদের অত্যাচারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। যদিও অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার মানুষদের আহাজারি এখনো কান পাতলেই শোনা যায়, তথাপি এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ব বিবেকের টনক নড়েছে।

আমি আশা করি একদিন ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরে পাবে। আপন ভূখণ্ডে কোনোরকম ভয়-ভীতি ছাড়াই জীবন-যাপন করতে পারবে। আর এটি অর্জনের জন্য ইসরাইলকে বাধ্য করতে হবে শান্তি স্থাপনে।

শান্তি স্থাপনে ইসরাইলকে বাধ্য করার জন্য আসুন সকলে মিলে ইসরাইল রাষ্ট্রকে বর্জন ও পরিত্যাগ করি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইহুদি হয়েও আমি কেন ইসরাইল বর্জনের পক্ষে

আপডেট সময় ০৪:০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা জিউস ভয়েজ ফর পিসের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা ভিলকোমারসন একজন ইহুদি। ইহুদি হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি বিশ্ববাসীকে ইসরাইল রাষ্ট্র বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে এ আহ্বান জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন এই মানবাধিকার কর্মী। নিবন্ধটি হুবহু তার ভাষায় তুলে ধরা হলো:

২০০৯ সালে ‘অপারেশন কাস্ট’ চলার সময় আমি তেলআবিবে বাস করতাম। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে চালানো ওই অপারেশনে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা অল্প কিছু লোক রাস্তায় নামলে তেলআবিবের সাধারণ নাগরিকরা আমাদের ডিম ছুঁড়ে ও হামলার ভয় দেখিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

এর পরদিন আমি আমার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে উপস্থিত অভিভাবকদের দেখে অবাক হয়ে যাই। তারা এমন আচরণ করে যেন কিছুই হয়নি। যখন তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে, আমি তাদের বলি মাত্র ৪০ মাইল দূরে যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে তা আমি মানতে পারছি না। এসময় তারা হয়তো রহস্যময়ভাবে নীরব হয়ে যায় অথবা ক্রোধের সাথে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমাকে তিরস্কার করে।

এ অবস্থায় আমি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ও অধিকারের জন্য শক্ত অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আর তাই আমি ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হই। এটি একটি অহিংস আন্দোলন। ২০০৫ সালে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী জনগণের সাথে একাত্মতা পোষণ করে ইসরাইলী দখলদারিত্বের অবসান দাবিতে সারা বিশ্বের মানবতাবাদীরা এ আন্দোলন শুরু করে। তবে ‘বিডিএস’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনও এখন সরকারি রোষানলের শিকার। আমার নিজ স্টেট নিউইয়র্কের আদালতও এই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অনুমতি প্রদান করেছে।

এর ৭ বছর পর গাজা ভূখণ্ডে আরো দু’টি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০১৪ সালের ওই হামলায় কমপক্ষে ৫০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এমনকি বোমা হামলার প্রাদুর্ভাব না থাকলেও গাজাবাসীকে জীবন রক্ষার্থে সারা বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়। পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত চেকপয়েন্ট, প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। ইসরাইলের অভ্যন্তরে যেসব ফিলিস্তিনি ইসরাইলের নাগরিকত্ব নিয়ে অবস্থান করে তাদের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি প্রয়োগ করা হয়। সবক্ষেত্রেই এসব হতভাগ্য ফিলিস্তিনিরা হন বঞ্চিত, শোষিত ও নির্যাতিত।

আমি জানি, বর্হিবিশ্বের চাপ সহ্য করা অসম্ভব না হলে ইসরাইল তার ফিলিস্তিন নীতি কখনো পরিবর্তন করবে না। বিডিএস নামের ‘বর্জন, পরিত্যাগ ও নিষেধাজ্ঞা’ আন্দোলন এরকম একটি চাপ। ইসরাইলের প্রতি অব্যাহত বর্জন ও নিষেধাজ্ঞার দাবি দেশটির শাসকদের মনে ভীতি ধরিয়েছে। ২০০৫ সালে আন্দোলনটি শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলিদের অত্যাচারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। যদিও অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার মানুষদের আহাজারি এখনো কান পাতলেই শোনা যায়, তথাপি এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ব বিবেকের টনক নড়েছে।

আমি আশা করি একদিন ফিলিস্তিনিরা তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরে পাবে। আপন ভূখণ্ডে কোনোরকম ভয়-ভীতি ছাড়াই জীবন-যাপন করতে পারবে। আর এটি অর্জনের জন্য ইসরাইলকে বাধ্য করতে হবে শান্তি স্থাপনে।

শান্তি স্থাপনে ইসরাইলকে বাধ্য করার জন্য আসুন সকলে মিলে ইসরাইল রাষ্ট্রকে বর্জন ও পরিত্যাগ করি।