আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মুহিবুর নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিখোঁজের চার মাস পর মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনায় পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা মুহিবুরের পরিবার।
মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমান গত জানুয়ারি থেকে রাশিয়ায় নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের চার মাস পর গত ১৭ এপ্রিল ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়াতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তার বাবা-মা ভাই-বোন।
পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে প্রবাসে গিয়েছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান মুহিবুর। স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেশে ফিরবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আদৌও কি দেশে ফিরবে মুহিবুরের মৃতদেহ।
মুহিবুরের বাবা-মায়ের প্রত্যাশা সরকার উদ্যোগ নিলে দেশে ফিরতে পারে মুহিবুরের মৃতদেহ।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, তিন বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় রাশিয়া গিয়েছিলেন মুহিবুর। এর মধ্যে নয় মাস আগে দেশে ছুটিতে এসে বিয়ে করে যান। দেশ থেকে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানতেন না মুহিবুর রুশ সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যুক্ত হয়েছেন। রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানো মুহিবুরের পরিবার ও পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।
মৃত্যুর আগমুহূর্তে মুহিবুর যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বাঙ্কারে অবস্থান নেন। অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বাঙ্কারে থাকা অবস্থায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুহিবুর। রাশিয়ান সেনাদের খাবার সরবরাহকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, ইউক্রেনে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত হয়েছি, মৃতদেহ দেশে আনার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















