ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের মা হারা এক এতিম কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এ বিয়ের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে প্রণাম জানান।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় যুক্ত থাকায় ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ নামেও পরিচিত। সেই সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসকের এ ধরনের অংশগ্রহণ একটি মানবিক দৃষ্টান্ত। তারা বলছেন, সমাজের উচ্চপর্যায়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন উপস্থিতি সামাজিক ভেদাভেদ কমাতে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মর্যাদা সমানভাবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কনের পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কনে প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী সীমা রানী বাসফোরও একই পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ডুয়েট এলাকায়। তাদের কন্যা প্রীতি রানী বাসফোর বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অংশগ্রহণ সমাজে সমতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবাইকে সমান মর্যাদা দিয়েছে। কাজেই আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্র করে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য—এই বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার নয়, অসম্মানের নয়, কম গুরুত্বপূর্ণও নয়—এটাই আমরা বিশ্বাস করি এবং সবাইকে তা মানতে উৎসাহিত করতে চাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ

আপডেট সময় ১১:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের মা হারা এক এতিম কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এ বিয়ের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকে প্রণাম জানান।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় যুক্ত থাকায় ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ নামেও পরিচিত। সেই সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসকের এ ধরনের অংশগ্রহণ একটি মানবিক দৃষ্টান্ত। তারা বলছেন, সমাজের উচ্চপর্যায়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন উপস্থিতি সামাজিক ভেদাভেদ কমাতে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মর্যাদা সমানভাবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কনের পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কনে প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী সীমা রানী বাসফোরও একই পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ডুয়েট এলাকায়। তাদের কন্যা প্রীতি রানী বাসফোর বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অংশগ্রহণ সমাজে সমতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবাইকে সমান মর্যাদা দিয়েছে। কাজেই আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্র করে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য—এই বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার নয়, অসম্মানের নয়, কম গুরুত্বপূর্ণও নয়—এটাই আমরা বিশ্বাস করি এবং সবাইকে তা মানতে উৎসাহিত করতে চাই।