ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান, ইরান থেকে যেভাবে উদ্ধার হলেন দ্বিতীয় মার্কিন পাইলট!

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল মাত্র একটি পিস্তল। চারপাশে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ইরানি বাহিনী। প্রতি ঘণ্টায় তার কাছে চলে আসছিল ইরানি সেনারা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল। শুরু হয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ ও শ্বাসরুদ্ধকর এক উদ্ধার অভিযান।

গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয় মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি। বিমানের দুই পাইলটই প্যারাসুট নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। প্রথম পাইলটকে ওই দিনই উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয়জন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শত্রু সীমানার গভীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। তার আত্মরক্ষার একমাত্র সম্বল ছিল একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরা দেননি।

কয়েকশ সেনা ও ডজনখানেক আকাশযান:

শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে কয়েকশ’ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছিল ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল যখন ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে ইরানি কনভয়ের সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো আকাশ থেকে ইরানি বাহিনীর ওপর মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এই প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই কমান্ডোরা ওই পাইলটকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নিতে সক্ষম হন।

ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরেই এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সাফল্যের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বীর যোদ্ধাকে ফিরিয়ে এনেছি। এটি ছিল আমাদের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মিশন। আমরা কাউকে পেছনে ফেলে চলে আসি না।”

ট্রাম্প আরও জানান, “প্রথম পাইলট উদ্ধারের খবরটি ইচ্ছা করেই গোপন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযানটি যাতে কোনওভাবে ফাঁস না হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্যই এই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান, ইরান থেকে যেভাবে উদ্ধার হলেন দ্বিতীয় মার্কিন পাইলট!

আপডেট সময় ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল মাত্র একটি পিস্তল। চারপাশে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ইরানি বাহিনী। প্রতি ঘণ্টায় তার কাছে চলে আসছিল ইরানি সেনারা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল। শুরু হয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ ও শ্বাসরুদ্ধকর এক উদ্ধার অভিযান।

গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয় মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি। বিমানের দুই পাইলটই প্যারাসুট নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। প্রথম পাইলটকে ওই দিনই উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয়জন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শত্রু সীমানার গভীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। তার আত্মরক্ষার একমাত্র সম্বল ছিল একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরা দেননি।

কয়েকশ সেনা ও ডজনখানেক আকাশযান:

শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে কয়েকশ’ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছিল ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল যখন ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে ইরানি কনভয়ের সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো আকাশ থেকে ইরানি বাহিনীর ওপর মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এই প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই কমান্ডোরা ওই পাইলটকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নিতে সক্ষম হন।

ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরেই এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সাফল্যের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বীর যোদ্ধাকে ফিরিয়ে এনেছি। এটি ছিল আমাদের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মিশন। আমরা কাউকে পেছনে ফেলে চলে আসি না।”

ট্রাম্প আরও জানান, “প্রথম পাইলট উদ্ধারের খবরটি ইচ্ছা করেই গোপন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযানটি যাতে কোনওভাবে ফাঁস না হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্যই এই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল।”