আকাশ নিউজ ডেস্ক :
জলপ্রপাত বললেই চোখে ভেসে ওঠে ওপর থেকে প্রচণ্ড বেগে নিচে আছড়ে পড়া পানির দৃশ্য। কিন্তু ভেনেজুয়েলার অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত এই চেনা ধারণাকে বদলে দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই জলপ্রপাতের পানি অনেক সময় মাটিতে পৌঁছানোর আগেই বাতাসে মিলিয়ে যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পানির ধারা যেন মাঝপথেই হারিয়ে যাচ্ছে।
কাছ থেকে দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। পানি নিচে নামার সময় শক্ত ধারায় না পড়ে কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকেই ভাবেন, এর পেছনে কোনো রহস্য আছে। আসলে এখানে কোনো রহস্য নেই। এটি পুরোপুরি প্রকৃতির নিয়ম, অর্থাৎ পদার্থবিজ্ঞান ও বাতাসের প্রভাবের ফল।
অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাতের উৎপত্তি আউয়ান্টেপুই নামের এক বিশাল পাহাড়ের চূড়া থেকে। পাহাড়টি জঙ্গলের ভেতর অনেক উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছে। এখান থেকে পানি প্রায় এক কিলোমিটার নিচে পড়তে শুরু করে। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পানি বায়ুমণ্ডলের (পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বাতাসের স্তর) বিভিন্ন স্তরের মুখোমুখি হয়। চারদিকের বাতাস পানির ধারায় চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নিচ থেকে বাতাসের ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কাও কাজ করে।
এই চাপের কারণে পানির ধারাটি ভেঙে যায়। প্রথমে তা খুব সরু হয়, পরে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়। মহাকর্ষ বল (পৃথিবীর টান) পানি নিচে নামাতে চাইলেও বাতাস সেই পতনকে ধীর করে দেয়। ফলে মাঝপথেই পানি আর একটানা ধারা থাকে না।
এই ছোট জলকণাগুলো বৃষ্টির মতো না পড়ে কুয়াশার মতো চারদিকে ছড়িয়ে যায়। গরম আবহাওয়ায় কিছু পানি বাষ্পীভূতও হয়ে যায়। আবার জোর বাতাসে কুয়াশা উড়ে পাশের জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিচ থেকে জলপ্রপাতটিকে পানির স্তম্ভ না দেখে ভাসমান মেঘের মতো মনে হয়।
তবে সব পানি যে হারিয়ে যায়, তা নয়। কিছু পানি নিচে পৌঁছে আশপাশে আর্দ্রতা তৈরি করে। সেখান থেকে ছোট ছোট প্রবাহ গড়ে ওঠে, যা পরে নদীতে মিশে যায়। এভাবেই অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাতের পানি নিচে নামার আগেই অনেকটা নরম ও শান্ত হয়ে যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























