ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

চুনারুঘাটে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই শিশু শিক্ষার্থী উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় দুই মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা পরিষদের সামনে বাজার এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মারুফ ইসলাম সবুজ (৯) এবং বানিয়াচং উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বেলু মিয়ার ছেলে সায়েম মিয়া (৮)। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের থানায় নেওয়া হয় এবং রাতে অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা পরস্পর আত্মীয় এবং একই সঙ্গে মাদ্রাসায় পড়ে। তাদের মা-বাবাকে খবর দিয়ে থানায় এনে দুই শিশুকে তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, গত রমজানের ঈদের পর থেকে তারা ইতোমধ্যে চারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে। এতে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে। গত ৩-৪ দিন আগেও তারা পালিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের বাহুবল থেকে ধরে আনা হয়। পরে বাধ্য হয়ে এভাবে শিকলে বেঁধে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তাদের বোঝানো হয়েছে যে এভাবে শাসন করা উচিত নয়। এ ধরনের শাসন শিশুদের মেধা বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিভাবকদের বলা হয়েছে, সন্তানদের বিষয়ে যেন তারা আরও নমনীয় হন।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, শিশু দুজন শিকলে বাঁধা অবস্থায় চুনারুঘাট বাজারে উপজেলা পরিষদের সামনে চলে এসেছিল। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আমি থানার ওসি সাহেবকে খবর দিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নিতে বলি এবং তার কাছে শিশুদের হস্তান্তর করি।

পরিবারের দাবি, বারবার পালিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সুযোগ পেয়ে শিশুরা শিকল কেটে বাজারে চলে আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই শিশু শিক্ষার্থী উদ্ধার

আপডেট সময় ১১:০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় দুই মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা পরিষদের সামনে বাজার এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো- হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মারুফ ইসলাম সবুজ (৯) এবং বানিয়াচং উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বেলু মিয়ার ছেলে সায়েম মিয়া (৮)। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের থানায় নেওয়া হয় এবং রাতে অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা পরস্পর আত্মীয় এবং একই সঙ্গে মাদ্রাসায় পড়ে। তাদের মা-বাবাকে খবর দিয়ে থানায় এনে দুই শিশুকে তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, গত রমজানের ঈদের পর থেকে তারা ইতোমধ্যে চারবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে। এতে পরিবারকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে। গত ৩-৪ দিন আগেও তারা পালিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের বাহুবল থেকে ধরে আনা হয়। পরে বাধ্য হয়ে এভাবে শিকলে বেঁধে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তাদের বোঝানো হয়েছে যে এভাবে শাসন করা উচিত নয়। এ ধরনের শাসন শিশুদের মেধা বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিভাবকদের বলা হয়েছে, সন্তানদের বিষয়ে যেন তারা আরও নমনীয় হন।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, শিশু দুজন শিকলে বাঁধা অবস্থায় চুনারুঘাট বাজারে উপজেলা পরিষদের সামনে চলে এসেছিল। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আমি থানার ওসি সাহেবকে খবর দিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নিতে বলি এবং তার কাছে শিশুদের হস্তান্তর করি।

পরিবারের দাবি, বারবার পালিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সুযোগ পেয়ে শিশুরা শিকল কেটে বাজারে চলে আসে।