ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোহিঙ্গা পরিস্থিতির পুরো দায় মিয়ানমারের: থেরেসা মে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় আখ্যায়িত করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ‘এটিকে জাতিগত নিধনই মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এসব ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীকে পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

সোমবার লন্ডনে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক এক বক্তৃতায় থেরেসা মে এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার খবরগুলোকে হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেন তিনি। লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের মতো বড় সমস্যা মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে বড় দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে মে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জঘন্য ও অমানবিক নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে যুক্তরাজ্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সকল ভূমিকা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা বিষয়ে থেরেসা মের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের কুইনমেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ পেনি গ্রিন এবং ড. টম ম্যাকমেনাস স্কাই নিউজকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তারা প্রমাণসহ চিঠি লিখে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে। অধ্যাপক ম্যাকমেনাস বলেন, মিয়ানমার সকল রোহিঙ্গাকে বিতাড়ন করতে চাইছে। তাদের গোষ্ঠীসহ নিধন করতে চাইছে। এমন কর্মকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন ম্যাকমেনাস।

সোমবার রাতে বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। ২৫ মিনিটের ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বীভৎস বিবরণ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের টুলাটোলি (তুলাতলি) গ্রামে গত ৩০ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করেছে বলে প্রমাণ হাজির করা হয় এই প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ওই গ্রামের ৬ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয়দের মোবাইলে ধারণ করা ভিড়িও চিত্র থেকে ওই গণহত্যার প্রমাণ মেলে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নৃশংস উপায়ে হত্যা এবং যুবতী মেয়েদের ধর্ষণের বীভৎস বর্ণনা তুলে ধরে প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল গেইটহাউজ বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (ইসলামিক স্টেট) এর বর্বরতার খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি। কিন্তু মিয়ানমারের ঘটনা আইএসের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। প্রতিবেদক বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মদদে এমন ঘটনা ঘটছে, যেখানে নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল শান্তি বিজয়ী অং সান সুচি।

বিবিসির এ প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়, মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যাদের বেশির ভাগই রাখাইন রাজ্যে বসবাস করতেন। ২৫ অক্টোবরের পর থেকে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমন স্বীকৃতি দেওয়া হলে জাতিসংঘ গণহত্যাবিষয়ক কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী ১৪৭টি দেশ এ সংঘাত বন্ধে প্রয়োজনে মিয়ানমারে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা পরিস্থিতির পুরো দায় মিয়ানমারের: থেরেসা মে

আপডেট সময় ০২:৪৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় আখ্যায়িত করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ‘এটিকে জাতিগত নিধনই মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এসব ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীকে পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

সোমবার লন্ডনে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক এক বক্তৃতায় থেরেসা মে এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার খবরগুলোকে হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেন তিনি। লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের মতো বড় সমস্যা মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে বড় দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে মে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জঘন্য ও অমানবিক নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে যুক্তরাজ্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সকল ভূমিকা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা বিষয়ে থেরেসা মের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের কুইনমেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ পেনি গ্রিন এবং ড. টম ম্যাকমেনাস স্কাই নিউজকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তারা প্রমাণসহ চিঠি লিখে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে। অধ্যাপক ম্যাকমেনাস বলেন, মিয়ানমার সকল রোহিঙ্গাকে বিতাড়ন করতে চাইছে। তাদের গোষ্ঠীসহ নিধন করতে চাইছে। এমন কর্মকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন ম্যাকমেনাস।

সোমবার রাতে বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। ২৫ মিনিটের ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বীভৎস বিবরণ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের টুলাটোলি (তুলাতলি) গ্রামে গত ৩০ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করেছে বলে প্রমাণ হাজির করা হয় এই প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ওই গ্রামের ৬ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয়দের মোবাইলে ধারণ করা ভিড়িও চিত্র থেকে ওই গণহত্যার প্রমাণ মেলে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নৃশংস উপায়ে হত্যা এবং যুবতী মেয়েদের ধর্ষণের বীভৎস বর্ণনা তুলে ধরে প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল গেইটহাউজ বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (ইসলামিক স্টেট) এর বর্বরতার খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি। কিন্তু মিয়ানমারের ঘটনা আইএসের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। প্রতিবেদক বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মদদে এমন ঘটনা ঘটছে, যেখানে নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল শান্তি বিজয়ী অং সান সুচি।

বিবিসির এ প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়, মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যাদের বেশির ভাগই রাখাইন রাজ্যে বসবাস করতেন। ২৫ অক্টোবরের পর থেকে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমন স্বীকৃতি দেওয়া হলে জাতিসংঘ গণহত্যাবিষয়ক কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী ১৪৭টি দেশ এ সংঘাত বন্ধে প্রয়োজনে মিয়ানমারে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।