ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায় মেনে নিন, না হলে করুণ পরিণতি হবে: গোলাম পরওয়ার আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া জোরদার হচ্ছে : ভারতীয় হাইকমিশনার হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে: নাহিদ ইসলাম

ডুমুরিয়ায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে সফল কৃষক শাহিনুর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশিক্ষণ-শিক্ষা-কাজ এ তিনের সমন্বয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে কৃষক শাহিনুর রহমান সফল হয়েছে। এ ফল চাষ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজ চাষ পদ্ধতি, অধিক লাভ আর কোন ঝুঁকি নেই বলে ডুমুরিয়ার কৃষকরা ‘ড্রাগন’ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন’ ফল ও এর চারা বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ড্রাগন ফল’ গ্রীষ্ম ম-লীয় ও এর নিকটবর্তীয় অঞ্চলের বিদেশী ফল। থাইল্যান্ডে এটি পিতারা নামে পরিচিত।

দ্রুত বর্ধনশীল এ ফলের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়। খুলনার ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে আগ্রহী কৃষকরা চার বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ নেয় এবং এ এলাকায় ড্রাগন চাষ শুরু করা হয়। সারা বছরই গাছে কম বেশি ফল থাকে। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ অঞ্চলে ‘ড্রাগন’ চাষ করে অনেক কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তবে শুধু জলাবদ্ধ ছাড়া এ ফল গাছ যে কোন মাটিতে রোপণে উপযোগী।ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের ‘ড্রাগন’ চাষী বি.এম শাহিনুর রহমান জানান, গত চার বছর আগে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘ড্রাগন’ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তার নিজস্ব চিংড়ি ঘেরের অতিরিক্ত জায়গায় বেড়ি বাঁধের (আইলে) ৫০টি লাল ড্রাগনের চারা রোপন করেন। বিষমুক্ত, জৈব সার ব্যবহার করে ওই গাছে সঠিক পরিচর্চার মধ্যমে এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতি গাছে বছরে গড় ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। তবে গত বছরে থেকে তার ৫০টি গাছে ১ হাজার কেজি ফল পাওয়া গেছে। যার বাজার মূল্য কম পক্ষে ৪০০ টাকা কেজি দরে বছরে ৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হচ্ছে।

ড্রাগন বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। ক্ষেত থেকেই ফঁড়িয়ারা কিনে নিয়ে যায়। পরিবহণ খরচ লাগে না। এছাড়া ড্রাগন গাছের গোড়া থেকে বর্ষার মৌসুমে অসংখ্য চারা গজায়। ওই চারা প্রতি পিচ বিভিন্ন জনের নিকট ৫০ টাকা মূল্যে অতিরিক্ত বিক্রি করা হয়। বর্তমান তিনি এ চারা ভারতসহ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছেন বলে জানান। ড্রাগন উৎপাদনের জন্য বছরে যে টাকা ব্যয় করা হয়, সেটি চারা বিক্রি থেকে খরচের টাকা পুশিয়ে যায়।
কৃষক শাহিনুর আরো জানান, প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, এটি পরীক্ষিত। এ ফল সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ গ্রাম ওজন হয়। ভেতরের খাবার অংশ সাস (জেলি) লাল টুকটুকে রঙের হয়ে থাকে। ফলটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খেতে খুবই সুস্বাদু। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন ফল’ ফড়িয়ার মাধ্যমে জাপান এবং গাছের চারা ভারতে রপ্তানী করা হচ্ছে। তবে অল্প পুঁজি আর লাভ বেশি, ড্রাগন ফল চাষে অনেকটা বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ‘ড্রাগন ফল’ উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি ড্রাগন গাছ প্রাপ্ত বয়সে সন্ধ্যা রাতে সাদা রঙের ফুল ফোটে এবং ভোর হলেই নেতিয়ে পড়ে। ফুলে মৃদু সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। খুলনা অঞ্চলে মূলতঃ সাদা ও লাল বাউড্রাগন চাষ হচ্ছে। এ ফল সালাদের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রক্তের গ্লুকোজকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাছাড়া জুস তৈরীতে এ ফলটি অত্যন্ত উপযোগী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন

ডুমুরিয়ায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে সফল কৃষক শাহিনুর

আপডেট সময় ০৭:১৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রশিক্ষণ-শিক্ষা-কাজ এ তিনের সমন্বয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ‘ড্রাগন ফল’ চাষে কৃষক শাহিনুর রহমান সফল হয়েছে। এ ফল চাষ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজ চাষ পদ্ধতি, অধিক লাভ আর কোন ঝুঁকি নেই বলে ডুমুরিয়ার কৃষকরা ‘ড্রাগন’ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন’ ফল ও এর চারা বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘ড্রাগন ফল’ গ্রীষ্ম ম-লীয় ও এর নিকটবর্তীয় অঞ্চলের বিদেশী ফল। থাইল্যান্ডে এটি পিতারা নামে পরিচিত।

দ্রুত বর্ধনশীল এ ফলের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়। খুলনার ডুমুরিয়ায় ড্রাগন চাষে আগ্রহী কৃষকরা চার বছর আগে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ নেয় এবং এ এলাকায় ড্রাগন চাষ শুরু করা হয়। সারা বছরই গাছে কম বেশি ফল থাকে। মাটির গুণগতমান ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ অঞ্চলে ‘ড্রাগন’ চাষ করে অনেক কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তবে শুধু জলাবদ্ধ ছাড়া এ ফল গাছ যে কোন মাটিতে রোপণে উপযোগী।ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের ‘ড্রাগন’ চাষী বি.এম শাহিনুর রহমান জানান, গত চার বছর আগে তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘ড্রাগন’ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তার নিজস্ব চিংড়ি ঘেরের অতিরিক্ত জায়গায় বেড়ি বাঁধের (আইলে) ৫০টি লাল ড্রাগনের চারা রোপন করেন। বিষমুক্ত, জৈব সার ব্যবহার করে ওই গাছে সঠিক পরিচর্চার মধ্যমে এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রতি গাছে বছরে গড় ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। তবে গত বছরে থেকে তার ৫০টি গাছে ১ হাজার কেজি ফল পাওয়া গেছে। যার বাজার মূল্য কম পক্ষে ৪০০ টাকা কেজি দরে বছরে ৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করা হচ্ছে।

ড্রাগন বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। ক্ষেত থেকেই ফঁড়িয়ারা কিনে নিয়ে যায়। পরিবহণ খরচ লাগে না। এছাড়া ড্রাগন গাছের গোড়া থেকে বর্ষার মৌসুমে অসংখ্য চারা গজায়। ওই চারা প্রতি পিচ বিভিন্ন জনের নিকট ৫০ টাকা মূল্যে অতিরিক্ত বিক্রি করা হয়। বর্তমান তিনি এ চারা ভারতসহ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছেন বলে জানান। ড্রাগন উৎপাদনের জন্য বছরে যে টাকা ব্যয় করা হয়, সেটি চারা বিক্রি থেকে খরচের টাকা পুশিয়ে যায়।
কৃষক শাহিনুর আরো জানান, প্রতিটি ড্রাগন গাছ ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, এটি পরীক্ষিত। এ ফল সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ গ্রাম ওজন হয়। ভেতরের খাবার অংশ সাস (জেলি) লাল টুকটুকে রঙের হয়ে থাকে। ফলটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খেতে খুবই সুস্বাদু। ডুমুরিয়ার ‘ড্রাগন ফল’ ফড়িয়ার মাধ্যমে জাপান এবং গাছের চারা ভারতে রপ্তানী করা হচ্ছে। তবে অল্প পুঁজি আর লাভ বেশি, ড্রাগন ফল চাষে অনেকটা বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ‘ড্রাগন ফল’ উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটি ড্রাগন গাছ প্রাপ্ত বয়সে সন্ধ্যা রাতে সাদা রঙের ফুল ফোটে এবং ভোর হলেই নেতিয়ে পড়ে। ফুলে মৃদু সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। খুলনা অঞ্চলে মূলতঃ সাদা ও লাল বাউড্রাগন চাষ হচ্ছে। এ ফল সালাদের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের শরীরের রক্তের গ্লুকোজকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাছাড়া জুস তৈরীতে এ ফলটি অত্যন্ত উপযোগী।