আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় ফাতেমা আক্তার নামের এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই হত্যায় পুলিশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন একজন রেস্তোরাঁ কর্মী। তিনি ফাতেমার বাবার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক তিনি। সন্দেহভাজন ওই রেস্তোরাঁ কর্মীকে খুঁজছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ধর্ষণের আলামত রয়েছে কি–না তা পরীক্ষা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির বাবার রেস্তোরাঁয় কাজ করত, এমন একজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখছি। ঘটনার পর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছে।’
খিলগাঁও থানা-পুলিশ জানায়, ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। দুই দিন আগে তার মা-বাবা ও ভাই হবিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যান। ঢাকায় ফাতেমা ও তার বোন ছিল। বিকেলে ফাতেমার বোন বাইরে যান। ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় বাসায় কেউ ছিল না। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিট সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক ধারণা, ফাঁকা বাসায় লুটপাট করার টার্গেট ছিল কারও। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই বাসায় সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁর কর্মীকে ঢুকতে দেখা গেছে। পুলিশের ভাষ্য, বাসায় লুটপাট করার চেষ্টা কলে হয়তো মেয়েটি বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিহত ফাতেমার ভাই শাকিল মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাসা থেকে ৫ ভরির মতো স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট হয়েছে। লুটপাটের উদ্দেশ্যে আমাদের রেস্তোরাঁর কর্মী আমার বোনকে খুন করতে পারে। ঘটনার পর থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ঘিরে আমাদের মূল সন্দেহ।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















