আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সূর্য থেকে আসা একটি শক্তিশালী সৌর ঝড় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওই সৌর ঝড়ের সময় পৃথিবীর প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে মহাকাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলো সাময়িকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে।
গবেষকরা জানান, সূর্যে হঠাৎ বিস্ফোরণ ও গরম গ্যাসের প্রবল স্রোত বের হলে তাকে সৌর ঝড় বলা হয়। এ ধরনের ঘটনা থেকে তৈরি হয় ‘স্পেস ওয়েদার’ (মহাকাশের আবহাওয়া)। এই মহাকাশ আবহাওয়া পৃথিবীর স্যাটেলাইট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন সিস্টেম (দিকনির্দেশনা নির্ভর প্রযুক্তি) এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় সৌর ঝড়টি বিশ্লেষণ করতে সূর্য পর্যবেক্ষণকারী এক বিশেষ মহাকাশযান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিশনের তথ্য ব্যবহার করা হয়। এই গবেষণা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সৌর ঝড়ের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব দেখা যায় তখনই, যখন ঝড়ের প্রভাবিত অংশ সরাসরি পৃথিবীতে আঘাত হানে। সে সময় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায় এবং তা পৃথিবীর খুব কাছাকাছি চলে আসে। এর ফলে কিছু ভূস্থির কক্ষপথের স্যাটেলাইট (যেগুলো একই জায়গায় ঘুরে) সাময়িকভাবে কঠিন মহাকাশ পরিবেশের মুখোমুখি হয়।
এ ছাড়া পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে খুব শক্তিশালী বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি হয়। এতে ওপরের বায়ুমণ্ডল অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে এবং বায়ুমণ্ডলের কণার নির্গমন বেড়ে যায়।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের সৌর ঝড় সম্পর্কে আগেভাগে জানা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি খুবই জরুরি। এতে করে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদ আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























