ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মজার ইশকুলের শিশুরা বিশ্বমঞ্চে গল্প শোনাবে: আরিয়ান আরিফ

পথশিশুদের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আরিয়ান আরিফের হাত ধরে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ‘মজার ইশকুল’। পথশিশুদের অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরিয়ান আরিফের মতে, পুষ্টি এবং শিক্ষার সমন্বয়ই শিশুদের ভবিষ্যতের ভিত্তি মজবুত করে। তাদের খাবার, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। এরপর পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা, যাতে শিশুরা চাপ অনুভব না করে। পাশাপাশি এমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেখানো, যা দিয়ে তারা ভবিষ্যতে আয় করতে পারে। পুষ্টি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে দেখার পেছনে এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই কাজ করেছে।’। আড্ডার শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, ২০১৩ সালে পথশিশুদের নিয়ে স্কুল শুরু করার ভাবনা কোথা থেকে এল। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আরিয়ান আরিফ বলেন, ‘শিশুদের চ্যালেঞ্জ আর আমাদের চ্যালেঞ্জকে আমি আলাদা করে দেখি না। এমনকি আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার আগের দিনও বনশ্রী থানার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল। এমনকি শিশুদের অভিভাবক খুঁজে না পাওয়া গেলে সাময়িকভাবে তাদের রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল; কিন্তু পরদিন আমাদের আটক করা হয়।

সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এক পডকাস্টে আরিয়ান আরিফ তাঁর দীর্ঘদিনের এই যাত্রার নেপথ্যের গল্প শোনান। পর্বটি প্রচারিত হয় গতকাল শনিবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারিত হয়।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর।

বিশেষ করে জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ পড়ার সময় শহীদ রুমির আত্মত্যাগ তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রুমি যেমন তাঁর সময়ের প্রয়োজনে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আরিয়ানও তেমনটিই মনে করেন। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোকেই তিনি নিজের দায়িত্ব ও দেশের প্রতি কর্তব্য বলে গণ্য করেন। রুমি তাঁর সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন। সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন এবং সেখান থেকে কীভাবে ফিরে এসেছিলেন।

মজার ইশকুলের শুরুর দিনগুলো নিয়ে আরিয়ান স্মৃতিচারণা করেন। তখন কোনো স্থায়ী অবকাঠামো ছিল না, খোলা আকাশের নিচেই চলত পাঠদান। সেই কঠিন দিনগুলো আজও তাঁর কাছে জীবন্ত। তিনি মনে করেন, শিশুরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় কোনো কাজের বিনিময়ে খাবার বা সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তা না রাখলে শিশুরা বিশ্বাস হারায়, যা তাদের আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারাকে তিনি বর্তমান সময়ের বড় একটি সামাজিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে ঠিক কী করব, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। দিন শেষে আমরা অনেক সময় একই জায়গায় আটকে যাই। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি পায়; কিন্তু সেগুলো পূরণ হয় না। ধীরে ধীরে তার আচরণেও এর প্রভাব পড়ে।’। কারণ, আমরা বাধা থেকে সহানুভূতি বা স্বীকৃতি চাইনি।

২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আরিয়ানের জীবনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও এবং স্থানীয় থানায় আগাম জানানো সত্ত্বেও সে সময় তাঁদের আটক করা হয়েছিল। যদিও সব বৈধ নথিপত্র ছিল, তারপরও তাঁরা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এমনকি অর্থ দাবির মতো অভিযোগও ছিল সেদিনের ঘটনায়। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা শিশুদের জন্য কাজ থামাননি, কারণ তাঁদের কাছে প্রাপ্তি বা স্বীকৃতির চেয়ে শিশুদের জীবন গড়াই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থী কুলসুমের সাফল্যের গল্প নিয়ে আরিয়ান বলেন, বর্ণপরিচয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত কুলসুম তাঁদের সঙ্গেই বড় হয়েছে। তার বাবার আস্থার প্রতিদান হিসেবে প্রতিষ্ঠান থেকে একটি রিকশা দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটায়। কুলসুমের আজকের এই পর্যায়ে আসা মজার ইশকুলের কাজের বড় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আরিয়ান আরিফ আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়েও একই সমস্যার মুখোমুখি হই। পরে বুঝতে পারি, ঘটনাটি নিয়ে একটি সাজানো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।’।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় সামাজিক কাজের গুরুত্ব নিয়ে আরিয়ান আরিফ বলেন, শিশু-কিশোরদের নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরি এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সামাজিক কাজ অপরিহার্য। তিনি পরামর্শ দেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক কাজ বাধ্যতামূলক করা উচিত। মজার ইশকুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আরিয়ান বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—মজার ইশকুলের কোনো এক শিশু একদিন বিশ্বের কোনো বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার সংগ্রামের গল্প শোনাবে। কমলাপুর বা সদরঘাটের মতো জনবহুল এলাকার বস্তিতে বড় হওয়া সেই শিশুর জীবন বদলে দেওয়ার যে স্বপ্ন ২০১৩ সালে তিনি দেখেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে তা এখন অনেক বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে। শিশুদের ধারাবাহিক উন্নতি ও অর্জিত ফলাফল তাঁকে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে পূর্ণ আশাবাদী করে তুলেছে। তবে এত বছর পরও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কথা বলিনি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পেজেশকিয়ান ও কাতারের আমির

মজার ইশকুলের শিশুরা বিশ্বমঞ্চে গল্প শোনাবে: আরিয়ান আরিফ

আপডেট সময় ১০:২২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পথশিশুদের জীবন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আরিয়ান আরিফের হাত ধরে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ‘মজার ইশকুল’। পথশিশুদের অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরিয়ান আরিফের মতে, পুষ্টি এবং শিক্ষার সমন্বয়ই শিশুদের ভবিষ্যতের ভিত্তি মজবুত করে। তাদের খাবার, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। এরপর পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা, যাতে শিশুরা চাপ অনুভব না করে। পাশাপাশি এমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেখানো, যা দিয়ে তারা ভবিষ্যতে আয় করতে পারে। পুষ্টি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে দেখার পেছনে এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই কাজ করেছে।’। আড্ডার শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, ২০১৩ সালে পথশিশুদের নিয়ে স্কুল শুরু করার ভাবনা কোথা থেকে এল। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আরিয়ান আরিফ বলেন, ‘শিশুদের চ্যালেঞ্জ আর আমাদের চ্যালেঞ্জকে আমি আলাদা করে দেখি না। এমনকি আমাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার আগের দিনও বনশ্রী থানার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল। এমনকি শিশুদের অভিভাবক খুঁজে না পাওয়া গেলে সাময়িকভাবে তাদের রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল; কিন্তু পরদিন আমাদের আটক করা হয়।

সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এক পডকাস্টে আরিয়ান আরিফ তাঁর দীর্ঘদিনের এই যাত্রার নেপথ্যের গল্প শোনান। পর্বটি প্রচারিত হয় গতকাল শনিবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারিত হয়।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই মানুষের কল্যাণে কিছু করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর।

বিশেষ করে জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ পড়ার সময় শহীদ রুমির আত্মত্যাগ তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রুমি যেমন তাঁর সময়ের প্রয়োজনে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আরিয়ানও তেমনটিই মনে করেন। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোকেই তিনি নিজের দায়িত্ব ও দেশের প্রতি কর্তব্য বলে গণ্য করেন। রুমি তাঁর সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন। সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন এবং সেখান থেকে কীভাবে ফিরে এসেছিলেন।

মজার ইশকুলের শুরুর দিনগুলো নিয়ে আরিয়ান স্মৃতিচারণা করেন। তখন কোনো স্থায়ী অবকাঠামো ছিল না, খোলা আকাশের নিচেই চলত পাঠদান। সেই কঠিন দিনগুলো আজও তাঁর কাছে জীবন্ত। তিনি মনে করেন, শিশুরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় কোনো কাজের বিনিময়ে খাবার বা সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তা না রাখলে শিশুরা বিশ্বাস হারায়, যা তাদের আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারাকে তিনি বর্তমান সময়ের বড় একটি সামাজিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে ঠিক কী করব, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। দিন শেষে আমরা অনেক সময় একই জায়গায় আটকে যাই। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি পায়; কিন্তু সেগুলো পূরণ হয় না। ধীরে ধীরে তার আচরণেও এর প্রভাব পড়ে।’। কারণ, আমরা বাধা থেকে সহানুভূতি বা স্বীকৃতি চাইনি।

২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আরিয়ানের জীবনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও এবং স্থানীয় থানায় আগাম জানানো সত্ত্বেও সে সময় তাঁদের আটক করা হয়েছিল। যদিও সব বৈধ নথিপত্র ছিল, তারপরও তাঁরা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এমনকি অর্থ দাবির মতো অভিযোগও ছিল সেদিনের ঘটনায়। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা শিশুদের জন্য কাজ থামাননি, কারণ তাঁদের কাছে প্রাপ্তি বা স্বীকৃতির চেয়ে শিশুদের জীবন গড়াই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থী কুলসুমের সাফল্যের গল্প নিয়ে আরিয়ান বলেন, বর্ণপরিচয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত কুলসুম তাঁদের সঙ্গেই বড় হয়েছে। তার বাবার আস্থার প্রতিদান হিসেবে প্রতিষ্ঠান থেকে একটি রিকশা দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটায়। কুলসুমের আজকের এই পর্যায়ে আসা মজার ইশকুলের কাজের বড় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আরিয়ান আরিফ আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়েও একই সমস্যার মুখোমুখি হই। পরে বুঝতে পারি, ঘটনাটি নিয়ে একটি সাজানো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।’।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় সামাজিক কাজের গুরুত্ব নিয়ে আরিয়ান আরিফ বলেন, শিশু-কিশোরদের নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরি এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সামাজিক কাজ অপরিহার্য। তিনি পরামর্শ দেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক কাজ বাধ্যতামূলক করা উচিত। মজার ইশকুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আরিয়ান বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—মজার ইশকুলের কোনো এক শিশু একদিন বিশ্বের কোনো বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার সংগ্রামের গল্প শোনাবে। কমলাপুর বা সদরঘাটের মতো জনবহুল এলাকার বস্তিতে বড় হওয়া সেই শিশুর জীবন বদলে দেওয়ার যে স্বপ্ন ২০১৩ সালে তিনি দেখেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে তা এখন অনেক বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে। শিশুদের ধারাবাহিক উন্নতি ও অর্জিত ফলাফল তাঁকে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে পূর্ণ আশাবাদী করে তুলেছে। তবে এত বছর পরও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কথা বলিনি।