ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত ফুলের নাম মেসির নামে

ফুটবল মাঠের জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবার পৌঁছে গেল বিজ্ঞানের আঙিনায়। পেরুর দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় একদল উদ্ভিদ গবেষক নতুন এক প্রজাতির সুগন্ধি ফুলের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন অচেনা থাকা এই উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (salvia messii)। ফুটবল, শিক্ষা ও বিজ্ঞানকে কি কখনো এক সুতোয় গাঁথা সম্ভব। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আন্দিজ পর্বতমালায় জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানের কাছে এত দিন অচেনা ছিল। নতুন আবিষ্কৃত কোনো উদ্ভিদের নামকরণ ইচ্ছেমতো করা যায় না।

আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর পাপড়ি। ফুল ফোটার পর এর পাপড়িগুলোয় সাদা এবং হালকা নীলের চমৎকার মিশ্রণ ফুটে ওঠে, যা অবিকল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সির রঙের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেন পাহাড়ের নির্জনতায় প্রকৃতি নিজেই আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তিকে এক টুকরো শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে। এই একই পরিবারে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি এবং সাধারণ সেজের মতো গাছগুলো রয়েছে। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকৃতি যেন শেষ পর্যন্ত এক আর্জেন্টাইন পোস্টকার্ড উপহার দিয়েছে, যা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে যুক্ত করেছে আন্দিজের জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে।

এই নতুন প্রজাতিটি আবিষ্কার ও তার বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করেছেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে উদ্ভিদটির নামকরণে লাতিন ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী পদবির শেষে ‘আই’ (i) যুক্ত করা হয়েছে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘মেসির উদ্ভিদ’। তাঁরা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফাইটোতাক্সায় তাঁদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।

মায়মোনাইডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি জানিয়েছেন, বিজ্ঞান মানুষেরই সৃষ্টি এবং প্রকৃতিবিদরা প্রায়ই অসামান্য ব্যক্তিত্বের গুণাবলি ও আবেগ দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। এই সম্মাননা কেবল মেসির নামকে অমর করবে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের এই ফুলের মাধ্যমে এক সুতোয় গেঁথেছে।

উল্লেখ্য, লিওনেল মেসির নামে প্রজাতির নামকরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও আর্জেন্টিনায় বিভিন্ন সময় বেশ কিছু প্রাণীর নাম তার নামে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারিতু জাতীয় পার্কে আবিষ্কৃত ছত্রাক ‘সেরকোপেমসেস মেসি’, পাতাগোনিয়ান মাকড়সা ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’, পুনা অঞ্চলের টিকটিকি ‘লিওলায়েমুস মেসি’, প্রাগৈতিহাসিক শকুন ‘ভালচার মেসি’ এবং এক ধরনের প্রাগৈতিহাসিক খোলসি প্রাণী ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’। এটিই ব্যাখ্যা করে, কেন বিভিন্ন অঞ্চলের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা তাঁর নামকে অমর করে রাখবে।’। আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের পর ক্লাব ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল মেসির। মেসির চোখে ফুটবলে ভবিষ্যতের ১০ তারকা।

এর আগে চলতি মাসেই জাতীয় দল থেকে অবসরের পর বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। একের পর এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মেসির প্রতি এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা তাকে মাঠের বাইরেও চিরস্মরণীয় করে রাখছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের সব ফ্লাইট স্থগিত

পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত ফুলের নাম মেসির নামে

আপডেট সময় ০৩:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল মাঠের জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবার পৌঁছে গেল বিজ্ঞানের আঙিনায়। পেরুর দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় একদল উদ্ভিদ গবেষক নতুন এক প্রজাতির সুগন্ধি ফুলের সন্ধান পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের কাছে এতদিন অচেনা থাকা এই উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (salvia messii)। ফুটবল, শিক্ষা ও বিজ্ঞানকে কি কখনো এক সুতোয় গাঁথা সম্ভব। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আন্দিজ পর্বতমালায় জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানের কাছে এত দিন অচেনা ছিল। নতুন আবিষ্কৃত কোনো উদ্ভিদের নামকরণ ইচ্ছেমতো করা যায় না।

আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর পাপড়ি। ফুল ফোটার পর এর পাপড়িগুলোয় সাদা এবং হালকা নীলের চমৎকার মিশ্রণ ফুটে ওঠে, যা অবিকল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সির রঙের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেন পাহাড়ের নির্জনতায় প্রকৃতি নিজেই আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তিকে এক টুকরো শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে। এই একই পরিবারে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি এবং সাধারণ সেজের মতো গাছগুলো রয়েছে। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকৃতি যেন শেষ পর্যন্ত এক আর্জেন্টাইন পোস্টকার্ড উপহার দিয়েছে, যা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে যুক্ত করেছে আন্দিজের জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে।

এই নতুন প্রজাতিটি আবিষ্কার ও তার বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করেছেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে উদ্ভিদটির নামকরণে লাতিন ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী পদবির শেষে ‘আই’ (i) যুক্ত করা হয়েছে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘মেসির উদ্ভিদ’। তাঁরা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফাইটোতাক্সায় তাঁদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।

মায়মোনাইডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি জানিয়েছেন, বিজ্ঞান মানুষেরই সৃষ্টি এবং প্রকৃতিবিদরা প্রায়ই অসামান্য ব্যক্তিত্বের গুণাবলি ও আবেগ দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। এই সম্মাননা কেবল মেসির নামকে অমর করবে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের এই ফুলের মাধ্যমে এক সুতোয় গেঁথেছে।

উল্লেখ্য, লিওনেল মেসির নামে প্রজাতির নামকরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও আর্জেন্টিনায় বিভিন্ন সময় বেশ কিছু প্রাণীর নাম তার নামে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারিতু জাতীয় পার্কে আবিষ্কৃত ছত্রাক ‘সেরকোপেমসেস মেসি’, পাতাগোনিয়ান মাকড়সা ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’, পুনা অঞ্চলের টিকটিকি ‘লিওলায়েমুস মেসি’, প্রাগৈতিহাসিক শকুন ‘ভালচার মেসি’ এবং এক ধরনের প্রাগৈতিহাসিক খোলসি প্রাণী ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’। এটিই ব্যাখ্যা করে, কেন বিভিন্ন অঞ্চলের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা তাঁর নামকে অমর করে রাখবে।’। আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের পর ক্লাব ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল মেসির। মেসির চোখে ফুটবলে ভবিষ্যতের ১০ তারকা।

এর আগে চলতি মাসেই জাতীয় দল থেকে অবসরের পর বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। একের পর এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মেসির প্রতি এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা তাকে মাঠের বাইরেও চিরস্মরণীয় করে রাখছে।