বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত ফ্লাইট চালু এবং যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে পুনরায় বিমান চলাচলের দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করার সময় বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন, সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাছিম উল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়, ১৯৭৯ সালে বরিশাল বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৯৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর বরিশাল সেক্টরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থার বিমান চলাচল শুরু হয়। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ থেকে নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ফ্লাইটের সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকে। বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে সপ্তাহে মাত্র তিনটি ফ্লাইট (বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রবিবার) পরিচালিত হচ্ছে। এর ওপর আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দুটি করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। এর পরিবর্তে সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত ফ্লাইট নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে নিয়মিত বিমান চলাচল অপরিহার্য। এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, বিভাগের মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে তিনি যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুট পুনরায় চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন। বর্তমানে সড়কপথে বরিশাল থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য ভ্রমণ সময় এবং ব্যয় কমাতে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ অত্যন্ত কার্যকর হবে।
যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুট পুনরায় চালু করা হলে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এটি কেবল পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে না, বরং যশোর ও বেনাপোল হয়ে ভারতে যাতায়াতকারী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে। সড়কপথের ওপর চাপ কমিয়ে আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য জরুরি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। নিয়মিত ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজতর হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















