ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শনকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এছাড়া পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোনো পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে সেই পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ার কথা নয়। বাজারে পণ্য রয়েছে, সরবরাহও রয়েছে—তাহলে দাম কেন বাড়ছে এবং এর পেছনে কী ধরনের মেকানিজম কাজ করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও সংস্থাকে আরও সক্রিয় ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।

গবেষণা প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে হলে গবেষণার জন্য গবেষণা নয়, মানুষের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা করতে হবে। দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে অনেক নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৌসুমি বন্যা একটি বাস্তবতা। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে প্রায় প্রতি বছরই কৃষকরা ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় হাওড় অঞ্চলের উপযোগী নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী মৌসুমেই হাওর অঞ্চলে নতুন জাতের প্রায় ৩০ টন বীজ সরবরাহ করা হবে। এর ফলে কৃষকরা আগের তুলনায় আরও আগে ধান কাটতে পারবেন। আগাম বন্যা ও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা আগাম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনে কৃষিপণ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের আধুনিক প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

এ সময় কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ছিনতাইয়ের হুমকির মুখে মার্কিন বিমান, মাঝআকাশ থেকে ফিরে গ্রেপ্তার যাত্রী

সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:২০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শনকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এছাড়া পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোনো পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে সেই পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ার কথা নয়। বাজারে পণ্য রয়েছে, সরবরাহও রয়েছে—তাহলে দাম কেন বাড়ছে এবং এর পেছনে কী ধরনের মেকানিজম কাজ করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও সংস্থাকে আরও সক্রিয় ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।

গবেষণা প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে হলে গবেষণার জন্য গবেষণা নয়, মানুষের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা করতে হবে। দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে অনেক নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৌসুমি বন্যা একটি বাস্তবতা। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে প্রায় প্রতি বছরই কৃষকরা ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা মোকাবিলায় হাওড় অঞ্চলের উপযোগী নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী মৌসুমেই হাওর অঞ্চলে নতুন জাতের প্রায় ৩০ টন বীজ সরবরাহ করা হবে। এর ফলে কৃষকরা আগের তুলনায় আরও আগে ধান কাটতে পারবেন। আগাম বন্যা ও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা আগাম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনে কৃষিপণ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের আধুনিক প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

এ সময় কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।