ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী জামায়াতের এমপিকে আরও মনোযোগী হতে বললেন স্পিকার শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন বাতিল করতে হবে: পরওয়ার

বিশ্বের দীর্ঘতম গবেষণা : চলছে ১০০ বছর ধরে, চলতে পারে আরও ১০০ বছর

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান পরীক্ষার স্বীকৃতি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ‘পিচ ড্রপ এক্সপেরিমেন্ট’। প্রায় ১০০ বছর ধরে চলা এই পরীক্ষা আরও এক শতাব্দী পর্যন্ত যেতে পারে গবেষকরা ধারণা করছেন।

১৯২৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী থমাস পারনেল এই পরীক্ষাটি শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পিচ নামক একটি পদার্থের তরলতা ও উচ্চ সান্দ্রতা পরিমাপ করা। পিচ মূলত টার জাতীয় উপাদান এবং অতীতে জলযানগুলোকে জলরোধী করতে ব্যবহৃত হতো। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন তরল হিসেবে পরিচিত।

পারনেল প্রথমে পিচ গরম করে একটি কাঁচের ফানেলে ঢেলে দেন এবং তার মুখ সিল করে দেন। এরপর তিনি তিন বছর ধরে সেটিকে ঠাণ্ডা হতে দেন। ১৯৩০ সালে ফানেলের মুখ খুলে অপেক্ষা শুরু করেন। পরীক্ষাটি বিশেষ কোনো পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই একটি প্রদর্শনী কেবিনেটে রাখা হয়। ফলে মৌসুমি তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে পিচের প্রবাহের হারও ভিন্ন হয়ে থাকে।

পারনেলের মৃত্যুর পর, ১৯৬১ সালে প্রয়াত অধ্যাপক জন মেইনস্টোন পরীক্ষাটির দায়িত্ব নেন এবং ৫২ বছর ধরে এটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষার শুরু থেকে পিচ এত ধীরে গড়িয়ে পড়ে যে প্রথম ফোঁটা পড়তে লেগেছিল আট বছর। পরবর্তী ৪০ বছরে আরও পাঁচটি ফোঁটা পড়েছিল।

এ পর্যন্ত নয়টি ফোঁটা পড়েছে। দশম ফোঁটা এই দশকের মধ্যে পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নানা কারণে কোনো ফোঁটাকে সরাসরি পড়তে দেখা যায়নি।

এটি দেখিয়েছে যে, পিচ সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন বা ভঙ্গুর মনে হলেও এটি আসলে একধরনের তরল। পিচের সান্দ্রতা পানির চেয়ে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গুণ বেশি। ফানেলে এখনও যথেষ্ট পিচ রয়েছে, যা এই পরীক্ষাটিকে আরও ১০০ বছর নিয়ে যেতে পারে।

২০০৫ সালে মেইনস্টোন এবং পারনেলকে (মরণোত্তর) আইজি নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারটি এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেয়, যা প্রথমে হাসায়, কিন্তু পরে চিন্তার খোরাক যোগায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বের দীর্ঘতম গবেষণা : চলছে ১০০ বছর ধরে, চলতে পারে আরও ১০০ বছর

আপডেট সময় ১০:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান পরীক্ষার স্বীকৃতি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ‘পিচ ড্রপ এক্সপেরিমেন্ট’। প্রায় ১০০ বছর ধরে চলা এই পরীক্ষা আরও এক শতাব্দী পর্যন্ত যেতে পারে গবেষকরা ধারণা করছেন।

১৯২৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী থমাস পারনেল এই পরীক্ষাটি শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পিচ নামক একটি পদার্থের তরলতা ও উচ্চ সান্দ্রতা পরিমাপ করা। পিচ মূলত টার জাতীয় উপাদান এবং অতীতে জলযানগুলোকে জলরোধী করতে ব্যবহৃত হতো। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন তরল হিসেবে পরিচিত।

পারনেল প্রথমে পিচ গরম করে একটি কাঁচের ফানেলে ঢেলে দেন এবং তার মুখ সিল করে দেন। এরপর তিনি তিন বছর ধরে সেটিকে ঠাণ্ডা হতে দেন। ১৯৩০ সালে ফানেলের মুখ খুলে অপেক্ষা শুরু করেন। পরীক্ষাটি বিশেষ কোনো পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই একটি প্রদর্শনী কেবিনেটে রাখা হয়। ফলে মৌসুমি তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে পিচের প্রবাহের হারও ভিন্ন হয়ে থাকে।

পারনেলের মৃত্যুর পর, ১৯৬১ সালে প্রয়াত অধ্যাপক জন মেইনস্টোন পরীক্ষাটির দায়িত্ব নেন এবং ৫২ বছর ধরে এটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষার শুরু থেকে পিচ এত ধীরে গড়িয়ে পড়ে যে প্রথম ফোঁটা পড়তে লেগেছিল আট বছর। পরবর্তী ৪০ বছরে আরও পাঁচটি ফোঁটা পড়েছিল।

এ পর্যন্ত নয়টি ফোঁটা পড়েছে। দশম ফোঁটা এই দশকের মধ্যে পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নানা কারণে কোনো ফোঁটাকে সরাসরি পড়তে দেখা যায়নি।

এটি দেখিয়েছে যে, পিচ সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন বা ভঙ্গুর মনে হলেও এটি আসলে একধরনের তরল। পিচের সান্দ্রতা পানির চেয়ে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গুণ বেশি। ফানেলে এখনও যথেষ্ট পিচ রয়েছে, যা এই পরীক্ষাটিকে আরও ১০০ বছর নিয়ে যেতে পারে।

২০০৫ সালে মেইনস্টোন এবং পারনেলকে (মরণোত্তর) আইজি নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারটি এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেয়, যা প্রথমে হাসায়, কিন্তু পরে চিন্তার খোরাক যোগায়।