ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

যে ছোট্ট ইসতেগফারেই মাফ হয় বিরতিহীন গুনাহ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিদিনের জীবনে জানা–অজানায়, ইচ্ছায়–অনিচ্ছায় মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কখনো গুনাহ বড় হয়ে ওঠে, কখনো তা বিরতিহীন অভ্যাসে পরিণত হয়। এসব গুনাহ ধীরে ধীরে মানুষের ইমানকে দুর্বল করে দেয়, অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে। একসময় মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তে সেই ইমানই কাঁপতে থাকে। শয়তান তখন ইমান ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য শেষ আঘাত হানার চেষ্টা করে। ভয়াবহ এই পরিণতি তথা বিরতিহীন গুনাহ থেকে বাঁচার পথ কি একেবারেই বন্ধ?

‘না’। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য রেখেছেন এক অতি সহজ, অথচ শক্তিশালী দরজা— একবাক্যের ছোট্ট একটি ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।”

গুনাহ ইমানকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে

অতিরিক্ত গুনাহ, তাওবাহীন গুনাহ এবং বিরতিহীন পাপ মানুষের অন্তরে ধীরে ধীরে কালো দাগ ফেলে। সেই দাগ একসময় অন্তরকে কঠিন করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا نُكِتَ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ

‘বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে।’ (তিরমিজি ৩৩৩৪)

অন্তরের এই কালো দাগ জমতে জমতে ইমান দুর্বল হয়ে যায়, তাওবার অনুভূতি মরে যেতে থাকে। তখন মৃত্যু এলে ইমান নিয়ে বিদায় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্তরের এই কঠিন দাগ তুলতে, ইমান জিন্দা করতে ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

আল্লাহর রহমত: ছোট্ট ইসতেগফার

মানুষের গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়। আল্লাহ নিজেই বান্দাকে ডাক দিয়ে বলেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা আজ-যুমার: আয়াত ৫৩)

এই রহমতের দরজা খোলার সবচেয়ে সহজ চাবি হলো এই ছোট্ট ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

হাদিসের আলোকে ইসতেগফারের শক্তি

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে দিনে বহুবার ইসতেগফার করতেন, অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। তিনি বলেন—

وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً

‘আল্লাহর কসম! আমি দিনে সত্তর বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবা করি।’ (বুখারি ৬৩০৭)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا

‘যে ব্যক্তি ইসতেগফারকে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুঃখ থেকে মুক্তির পথ করে দেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

প্রতিটি দুঃখ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

বিরতিহীন গুনাহ থেকেও মুক্তির আশা

অনেকেই ভাবে— ‘আমি তো একই গুনাহ বারবার করি, আমার ইসতেগফার কি কবুল হবে?’ এর উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। তিনি বলেন—

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ

‘তিনিই তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করেন।’ (সুরা আশ-শুরা: আয়াত ২৫)

শর্ত একটাই—হৃদয়ে অনুশোচনা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা। বিরতিহীন গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

মনে রাখতে হবে

গুনাহ মানুষকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু ইসতেগফার মানুষকে আবার দাঁড় করিয়ে দেয়। বড় গুনাহ হোক বা ছোট গুনাহ, বিরতিহীন হোক বা দীর্ঘদিনের গুনাহ হোক—আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা খুবই ছোট। আর এতেই মহান আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তাহলো—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

এই ছোট্ট বাক্যই হতে পারে আপনার ইমান রক্ষার ঢাল, মৃত্যুর মুহূর্তে নাজাতের মাধ্যম। আসুন, আমরা আজ থেকেই সব সময় এই ছোট্ট ইসতেগফারকে জীবনের সঙ্গী বানাই। কারণ—আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আর বান্দা ক্ষমা চাইলে তিনি কখনো ফিরিয়ে দেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যে ছোট্ট ইসতেগফারেই মাফ হয় বিরতিহীন গুনাহ

আপডেট সময় ০৯:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিদিনের জীবনে জানা–অজানায়, ইচ্ছায়–অনিচ্ছায় মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। কখনো গুনাহ বড় হয়ে ওঠে, কখনো তা বিরতিহীন অভ্যাসে পরিণত হয়। এসব গুনাহ ধীরে ধীরে মানুষের ইমানকে দুর্বল করে দেয়, অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে। একসময় মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তে সেই ইমানই কাঁপতে থাকে। শয়তান তখন ইমান ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য শেষ আঘাত হানার চেষ্টা করে। ভয়াবহ এই পরিণতি তথা বিরতিহীন গুনাহ থেকে বাঁচার পথ কি একেবারেই বন্ধ?

‘না’। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য রেখেছেন এক অতি সহজ, অথচ শক্তিশালী দরজা— একবাক্যের ছোট্ট একটি ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।”

গুনাহ ইমানকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে

অতিরিক্ত গুনাহ, তাওবাহীন গুনাহ এবং বিরতিহীন পাপ মানুষের অন্তরে ধীরে ধীরে কালো দাগ ফেলে। সেই দাগ একসময় অন্তরকে কঠিন করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا نُكِتَ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ

‘বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার হৃদয়ে একটি কালো দাগ পড়ে।’ (তিরমিজি ৩৩৩৪)

অন্তরের এই কালো দাগ জমতে জমতে ইমান দুর্বল হয়ে যায়, তাওবার অনুভূতি মরে যেতে থাকে। তখন মৃত্যু এলে ইমান নিয়ে বিদায় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্তরের এই কঠিন দাগ তুলতে, ইমান জিন্দা করতে ইসতেগফারের বিকল্প নেই।

আল্লাহর রহমত: ছোট্ট ইসতেগফার

মানুষের গুনাহ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়। আল্লাহ নিজেই বান্দাকে ডাক দিয়ে বলেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা আজ-যুমার: আয়াত ৫৩)

এই রহমতের দরজা খোলার সবচেয়ে সহজ চাবি হলো এই ছোট্ট ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

হাদিসের আলোকে ইসতেগফারের শক্তি

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে দিনে বহুবার ইসতেগফার করতেন, অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। তিনি বলেন—

وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً

‘আল্লাহর কসম! আমি দিনে সত্তর বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবা করি।’ (বুখারি ৬৩০৭)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا

‘যে ব্যক্তি ইসতেগফারকে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুঃখ থেকে মুক্তির পথ করে দেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

প্রতিটি দুঃখ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

বিরতিহীন গুনাহ থেকেও মুক্তির আশা

অনেকেই ভাবে— ‘আমি তো একই গুনাহ বারবার করি, আমার ইসতেগফার কি কবুল হবে?’ এর উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। তিনি বলেন—

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ

‘তিনিই তার বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করেন।’ (সুরা আশ-শুরা: আয়াত ২৫)

শর্ত একটাই—হৃদয়ে অনুশোচনা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা। বিরতিহীন গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম এই ইসতেগফার—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

মনে রাখতে হবে

গুনাহ মানুষকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু ইসতেগফার মানুষকে আবার দাঁড় করিয়ে দেয়। বড় গুনাহ হোক বা ছোট গুনাহ, বিরতিহীন হোক বা দীর্ঘদিনের গুনাহ হোক—আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা খুবই ছোট। আর এতেই মহান আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তাহলো—

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’

এই ছোট্ট বাক্যই হতে পারে আপনার ইমান রক্ষার ঢাল, মৃত্যুর মুহূর্তে নাজাতের মাধ্যম। আসুন, আমরা আজ থেকেই সব সময় এই ছোট্ট ইসতেগফারকে জীবনের সঙ্গী বানাই। কারণ—আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আর বান্দা ক্ষমা চাইলে তিনি কখনো ফিরিয়ে দেন না।