ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ রহস্যে নতুন মোড়

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন আলোকপাত করেছে। সম্প্রতি টেলিস্কোপের প্রথম দুই বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

বিষয়টি ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত, যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হারের প্রক্ষেপণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে বিরোধ তুলে ধরে। ২০১৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ডেটা এই সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছিল। এবার JWST-এর ডেটা, যা সম্প্রতি ‘The Astrophysical Journal’-এ প্রকাশিত হয়েছে, এই সমস্যা সমাধানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ও গবেষণার প্রধান লেখক অ্যাডাম রিস বলেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপণের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

হাবল ও ওয়েব টেলিস্কোপের ডেটা অনুযায়ী মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩ কিলোমিটার, যা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপিত ৬৭-৬৮ কিলোমিটারের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যাগত ব্যবধান এমনই যে এটি সহজ অনুমানের মাধ্যমে মেলানো সম্ভব নয়।

ডার্ক এনার্জিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের মূল চালক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইন্সট্রুমেন্ট (DESI) থেকে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সময়ের সাথে ডার্ক ম্যাটারের ঘনত্ব বেড়েছে, যা ব্ল্যাক হোলের বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

গবেষকরা বলছেন, এসব নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন ও ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই রহস্য সমাধান শুধু মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণই নয়, বরং মহাবিশ্বের গোড়ার ধারা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গভীরতর জ্ঞান দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ রহস্যে নতুন মোড়

আপডেট সময় ১১:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন আলোকপাত করেছে। সম্প্রতি টেলিস্কোপের প্রথম দুই বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

বিষয়টি ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত, যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হারের প্রক্ষেপণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে বিরোধ তুলে ধরে। ২০১৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ডেটা এই সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছিল। এবার JWST-এর ডেটা, যা সম্প্রতি ‘The Astrophysical Journal’-এ প্রকাশিত হয়েছে, এই সমস্যা সমাধানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ও গবেষণার প্রধান লেখক অ্যাডাম রিস বলেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপণের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

হাবল ও ওয়েব টেলিস্কোপের ডেটা অনুযায়ী মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩ কিলোমিটার, যা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপিত ৬৭-৬৮ কিলোমিটারের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যাগত ব্যবধান এমনই যে এটি সহজ অনুমানের মাধ্যমে মেলানো সম্ভব নয়।

ডার্ক এনার্জিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের মূল চালক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইন্সট্রুমেন্ট (DESI) থেকে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সময়ের সাথে ডার্ক ম্যাটারের ঘনত্ব বেড়েছে, যা ব্ল্যাক হোলের বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

গবেষকরা বলছেন, এসব নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন ও ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই রহস্য সমাধান শুধু মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণই নয়, বরং মহাবিশ্বের গোড়ার ধারা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গভীরতর জ্ঞান দেবে।