ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ রহস্যে নতুন মোড়

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন আলোকপাত করেছে। সম্প্রতি টেলিস্কোপের প্রথম দুই বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

বিষয়টি ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত, যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হারের প্রক্ষেপণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে বিরোধ তুলে ধরে। ২০১৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ডেটা এই সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছিল। এবার JWST-এর ডেটা, যা সম্প্রতি ‘The Astrophysical Journal’-এ প্রকাশিত হয়েছে, এই সমস্যা সমাধানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ও গবেষণার প্রধান লেখক অ্যাডাম রিস বলেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপণের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

হাবল ও ওয়েব টেলিস্কোপের ডেটা অনুযায়ী মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩ কিলোমিটার, যা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপিত ৬৭-৬৮ কিলোমিটারের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যাগত ব্যবধান এমনই যে এটি সহজ অনুমানের মাধ্যমে মেলানো সম্ভব নয়।

ডার্ক এনার্জিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের মূল চালক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইন্সট্রুমেন্ট (DESI) থেকে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সময়ের সাথে ডার্ক ম্যাটারের ঘনত্ব বেড়েছে, যা ব্ল্যাক হোলের বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

গবেষকরা বলছেন, এসব নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন ও ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই রহস্য সমাধান শুধু মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণই নয়, বরং মহাবিশ্বের গোড়ার ধারা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গভীরতর জ্ঞান দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ রহস্যে নতুন মোড়

আপডেট সময় ১১:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের রহস্যে নতুন আলোকপাত করেছে। সম্প্রতি টেলিস্কোপের প্রথম দুই বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

বিষয়টি ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত, যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হারের প্রক্ষেপণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে বিরোধ তুলে ধরে। ২০১৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ডেটা এই সমস্যার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছিল। এবার JWST-এর ডেটা, যা সম্প্রতি ‘The Astrophysical Journal’-এ প্রকাশিত হয়েছে, এই সমস্যা সমাধানে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ও গবেষণার প্রধান লেখক অ্যাডাম রিস বলেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপণের মধ্যে যে বৈপরীত্য, তা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারণা অসম্পূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

হাবল ও ওয়েব টেলিস্কোপের ডেটা অনুযায়ী মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হার প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩ কিলোমিটার, যা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রক্ষেপিত ৬৭-৬৮ কিলোমিটারের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যাগত ব্যবধান এমনই যে এটি সহজ অনুমানের মাধ্যমে মেলানো সম্ভব নয়।

ডার্ক এনার্জিকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের মূল চালক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ব্ল্যাক হোলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইন্সট্রুমেন্ট (DESI) থেকে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সময়ের সাথে ডার্ক ম্যাটারের ঘনত্ব বেড়েছে, যা ব্ল্যাক হোলের বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

গবেষকরা বলছেন, এসব নতুন পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন ও ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই রহস্য সমাধান শুধু মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণই নয়, বরং মহাবিশ্বের গোড়ার ধারা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গভীরতর জ্ঞান দেবে।