ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

সূর্যের চোখধাঁধানো ছবি, সৌর রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) এবং নাসার যৌথ মিশন সৌর অরবিটার এবার সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের সবচেয়ে বিস্তারিত ছবি তুলে ধরেছে। এই ছবিগুলো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বাইরের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করেছে। এই তথ্য সৌর কার্যকালাপের অজানা রহস্য উন্মোচনে সহায়ক।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযানটি ২০২৩ সালের ২২ মার্চ, সূর্য থেকে ৭৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর থেকে এসব ছবি ধারণ করে। গত ২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই ছবিগুলো সূর্যের আলোর উৎস ফটোস্ফিয়ারের সূক্ষ্ম এবং গতিশীল দিকগুলো দেখিয়েছে।

সৌর অরবিটার মিশনটি ছয়টি উন্নতমানের ইমেজিং সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পোলারিমেট্রিক অ্যান্ড হেলিওসিসমিক ইমেজার (PHI) এবং এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজার (EUI)। PHI সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশনা এবং পৃষ্ঠের গতিবিধি ম্যাপিংয়ে দক্ষ।

প্রকল্প বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল মুলার জানান, PHI-এর নতুন হাই-রেজল্যুশন মানচিত্রে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং প্রবাহের অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। এসব মানচিত্র সূর্যের বাইরের গরম স্তর করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়, যা EUI দ্বারা চিত্রিত হয়েছে।

সূর্যের ফটোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি সূর্যকলঙ্ক বা সানস্পট দ্বারা চিহ্নিত, যা তুলনামূলক শীতল এবং অন্ধকার অঞ্চল। এই সানস্পটগুলো সূর্যের অভ্যন্তরীণ তাপের পরিবহন ব্যাহত করে। অনেক সানস্পটের আকার পৃথিবীর চেয়েও বড়।

PHI আরও তৈরি করেছে ম্যাগনেটোগ্রাম যা সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের সক্রিয় অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে এবং ট্যাকোগ্রাম যা সূর্যের পৃষ্ঠের পদার্থের গতিবিধির গতি এবং দিক দেখায়।

EUI সূর্যের বাইরের স্তর করোনা পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় এক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এসব পর্যবেক্ষণ কেন করোনার তাপ ফটোস্ফিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। এই ছবিগুলো তৈরি করতে সৌর অরবিটার প্রতি ক্যাপচারের পর ঘুরে ২৫টি পৃথক ছবি তোলার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সূর্য চিত্র নির্মাণ করেছে।

সৌর পর্যবেক্ষণে এটাই সর্বোচ্চ সফলতার একটি অধ্যায়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সৌর কার্যকালাপ এবং তার প্রভাব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

সূর্যের চোখধাঁধানো ছবি, সৌর রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ১০:১৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) এবং নাসার যৌথ মিশন সৌর অরবিটার এবার সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের সবচেয়ে বিস্তারিত ছবি তুলে ধরেছে। এই ছবিগুলো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বাইরের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করেছে। এই তথ্য সৌর কার্যকালাপের অজানা রহস্য উন্মোচনে সহায়ক।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎক্ষেপিত এই মহাকাশযানটি ২০২৩ সালের ২২ মার্চ, সূর্য থেকে ৭৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর থেকে এসব ছবি ধারণ করে। গত ২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই ছবিগুলো সূর্যের আলোর উৎস ফটোস্ফিয়ারের সূক্ষ্ম এবং গতিশীল দিকগুলো দেখিয়েছে।

সৌর অরবিটার মিশনটি ছয়টি উন্নতমানের ইমেজিং সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পোলারিমেট্রিক অ্যান্ড হেলিওসিসমিক ইমেজার (PHI) এবং এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজার (EUI)। PHI সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশনা এবং পৃষ্ঠের গতিবিধি ম্যাপিংয়ে দক্ষ।

প্রকল্প বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল মুলার জানান, PHI-এর নতুন হাই-রেজল্যুশন মানচিত্রে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং প্রবাহের অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। এসব মানচিত্র সূর্যের বাইরের গরম স্তর করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়, যা EUI দ্বারা চিত্রিত হয়েছে।

সূর্যের ফটোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি সূর্যকলঙ্ক বা সানস্পট দ্বারা চিহ্নিত, যা তুলনামূলক শীতল এবং অন্ধকার অঞ্চল। এই সানস্পটগুলো সূর্যের অভ্যন্তরীণ তাপের পরিবহন ব্যাহত করে। অনেক সানস্পটের আকার পৃথিবীর চেয়েও বড়।

PHI আরও তৈরি করেছে ম্যাগনেটোগ্রাম যা সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের সক্রিয় অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে এবং ট্যাকোগ্রাম যা সূর্যের পৃষ্ঠের পদার্থের গতিবিধির গতি এবং দিক দেখায়।

EUI সূর্যের বাইরের স্তর করোনা পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় এক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এসব পর্যবেক্ষণ কেন করোনার তাপ ফটোস্ফিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। এই ছবিগুলো তৈরি করতে সৌর অরবিটার প্রতি ক্যাপচারের পর ঘুরে ২৫টি পৃথক ছবি তোলার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সূর্য চিত্র নির্মাণ করেছে।

সৌর পর্যবেক্ষণে এটাই সর্বোচ্চ সফলতার একটি অধ্যায়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সৌর কার্যকালাপ এবং তার প্রভাব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন।