ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মরলেও মিয়ানমারে ফিরে যাবে না রোহিঙ্গারা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৯৪২ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলে আসছে। ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৮ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এ ছাড়া বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ অধিকারবঞ্চিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্টে ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার অজুহাত তুলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা ভয়াবহ অত্যাচার শুরু করে। ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি চলে হত্যা ও ধর্ষণ। এ কারণে বাধ্য হয়েই দলে-দলে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করতে থাকে বাংলাদেশে । গত এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

নাগরিকত্ব ছাড়া মিয়ানমারে ফিরতে চান না অধিকাংশ রোহিঙ্গা। তারা জানান, মিয়ানমার সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের এমন ভয়াবহ নির্মমতার পর আর সেখানে ফিরে যাওয়াটা কোনোভাবেই নিরাপদ হবে না।

যদি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করে ফিরিয়ে নেয়, শিক্ষা, চিকিৎসা বাসস্থানসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় তবেই তারা সে দেশে ফিরে যাবে। নয়তো বাংলাদেশেই তারা মরবে, তারপরও ফিরে যাবে না।

তারা বলছেন, ‘নাগরিকত্ব না থাকায় আমরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমাদের ‘অশিক্ষিত’ ও ‘অন্ধ’ করে রাখা হয়েছে যুগের পর যুগ। আমাদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিছু মাদ্রাসা ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে তাও বন্ধ রয়েছে। আমাদের যেতে দেয়া হয় না শহরে কিংবা নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে। চাষবাস আর পশু পালনই আমাদের একমাত্র জীবিকা।

অবস্থা এমন যে, আমাদের অনেকে যন্ত্রচালিত যানবাহন বা গাড়ি দেখেনি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অনেককে যন্ত্রচালিত গাড়ি দেখে ভয় পেতে দেখা গেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ কী জিনিস রোহিঙ্গারা জানে না। বিয়ের বয়স নিয়েও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১০-১২ বছরের মেয়েরও বিয়ে হয়ে যায়। কিশোরীরা মা হচ্ছে প্রতিবছরই।’

কতিপয় রোহিঙ্গা মুসলিম ‘বিদ্রোহীর’ সন্ত্রাসের অজুহাতে রাখাইন রাজ্যের সাধারণ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনারা নিদারুণ জুলুম চালালেও বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা এসবের কিছুই জানেন না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউ এন এইচ সি আরের) হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি দু দিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করেছেন।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর ) ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার জন্য মিয়ানমার দায়ী। তাদেরই এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। শুধু ফিরিয়ে নিলেই হবে না রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্যাতনের মুখে ১৯৭৮ এবং ১৯৯১ সালেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরিবেশ ঠিক হওয়ায় পর আবারও ফিরে গিয়েছিলেন তারা। এবারও ফিরতে চান তারা। তবে রাখাইনে বৌদ্ধ বা মগরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় সেসব সুযোগ-সুবিধা পেলেই ফিরে যাবেন রোহিঙ্গারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মরলেও মিয়ানমারে ফিরে যাবে না রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৯৪২ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলে আসছে। ১৯৭৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৮ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এ ছাড়া বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ অধিকারবঞ্চিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্টে ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার অজুহাত তুলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা ভয়াবহ অত্যাচার শুরু করে। ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি চলে হত্যা ও ধর্ষণ। এ কারণে বাধ্য হয়েই দলে-দলে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করতে থাকে বাংলাদেশে । গত এক মাসেই প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

নাগরিকত্ব ছাড়া মিয়ানমারে ফিরতে চান না অধিকাংশ রোহিঙ্গা। তারা জানান, মিয়ানমার সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের এমন ভয়াবহ নির্মমতার পর আর সেখানে ফিরে যাওয়াটা কোনোভাবেই নিরাপদ হবে না।

যদি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করে ফিরিয়ে নেয়, শিক্ষা, চিকিৎসা বাসস্থানসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় তবেই তারা সে দেশে ফিরে যাবে। নয়তো বাংলাদেশেই তারা মরবে, তারপরও ফিরে যাবে না।

তারা বলছেন, ‘নাগরিকত্ব না থাকায় আমরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমাদের ‘অশিক্ষিত’ ও ‘অন্ধ’ করে রাখা হয়েছে যুগের পর যুগ। আমাদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিছু মাদ্রাসা ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে তাও বন্ধ রয়েছে। আমাদের যেতে দেয়া হয় না শহরে কিংবা নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে। চাষবাস আর পশু পালনই আমাদের একমাত্র জীবিকা।

অবস্থা এমন যে, আমাদের অনেকে যন্ত্রচালিত যানবাহন বা গাড়ি দেখেনি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অনেককে যন্ত্রচালিত গাড়ি দেখে ভয় পেতে দেখা গেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ কী জিনিস রোহিঙ্গারা জানে না। বিয়ের বয়স নিয়েও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১০-১২ বছরের মেয়েরও বিয়ে হয়ে যায়। কিশোরীরা মা হচ্ছে প্রতিবছরই।’

কতিপয় রোহিঙ্গা মুসলিম ‘বিদ্রোহীর’ সন্ত্রাসের অজুহাতে রাখাইন রাজ্যের সাধারণ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনারা নিদারুণ জুলুম চালালেও বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা এসবের কিছুই জানেন না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউ এন এইচ সি আরের) হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি দু দিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করেছেন।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর ) ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার জন্য মিয়ানমার দায়ী। তাদেরই এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। শুধু ফিরিয়ে নিলেই হবে না রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্যাতনের মুখে ১৯৭৮ এবং ১৯৯১ সালেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরিবেশ ঠিক হওয়ায় পর আবারও ফিরে গিয়েছিলেন তারা। এবারও ফিরতে চান তারা। তবে রাখাইনে বৌদ্ধ বা মগরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় সেসব সুযোগ-সুবিধা পেলেই ফিরে যাবেন রোহিঙ্গারা।