ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

৮৭ বছরের পুরনো স্বাদের কাচ্চি মোহাম্মদপুরে

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভোজন রসিকদের অনেকের কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে কাচ্চি। আর সেই কাচ্চির স্বাদে যদি জড়িয়ে থাকে তুর্কি বা মুঘল আমলের স্বাদ, তাহলে তো কথাই নেই!

২০২১ সালে এসে শত বছর আগের খাবারের স্বাদ পাওয়া অনেকটাই কঠিন। কেননা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে অনেকেই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। তবে কালেভাদ্রে এমনও অনেকের দেখা মেলে, যারা ঐহিত্যকে টিকে রেখেছেন যুগের পর যুগ।

তাদেরই একজন ফজলুর রহমান। ৬৬ বছর বয়সী ফজলুর রহমান বাবার কাছ থেকে কাচ্চি রান্না শিখেছেন। তার বাবা ইসমাইল মিয়া সে সময়ের জনপ্রিয় কাচ্চি রাঁধুনি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তৎকালীন নবাব বাড়ির শেফ ছিলেন ইসমাইল মিয়া। সেখান থেকে হোটেল পূর্বানীতে কাজ করেন তিনি।

ফজলুর রহমান জানান, বাবার কাছ থেকে বেশ সুপ্তভাবেই সব কিছু রপ্ত করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার রান্না করা কাচ্চির স্বাদ। বাবার কাছ থেকে শেখা কাচ্চির রেসিপি এখনো ধরে রেখেছেন ফজলুর রহমান। তিনি জানান, ৮৭ বছর ধরে তার পরিবার ঐতিহ্যবাহী এই কাচ্চি পরিবেশ করে আসছে।

বাবার থেকে কাচ্চি রান্না শেখার পর সেই রেসিপি তিনিও শিখিয়েছেন তার দুই সন্তানকে। তার প্রত্যাশা, আধুনিকতার তোড়ে যেন ঐতিহ্যের মৃত্যু না হয়।

গত চার দশকে ফজলুর রহমানের রান্না কাচ্চিতে লাখো মানুষের পেট ভরেছে। অর্জনটাও কম নন বলে জানিয়েছেন তিনি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্মৃতি সম্মাননা, মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

ফজলুর রহমানের ভাষায়, কাচ্চি রান্না শুধু একটা রান্না নয়। এটি একটি শিল্প। যা বংশীয়ভাবে তিনি ধারণ করে আসছেন। শিখিয়েছেন তার পরবর্তী প্রজন্মকেও।

তিনি বলেন, কাচ্চি বিরিয়ানি পূর্বে যেভাবে তৈরি হতো এখন বর্তমানে সেভাবে মান বজায় রেখে করা হয় না বলে মনে করি। কাচ্চি বিরিয়ানি দম কুকিং হচ্ছে একটা আর্ট। আমি মনে করি, আমি এখনো প্রতিনিয়ত শিখছি। আমার দুই ছেলেকে রন্ধন প্রণালী রপ্ত করিয়েছি। তারা বেশ আগে থেকেই আমার ক্যাটারিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় একটি ক্যাটারিং গড়েছেন মাস্টার শেফ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ফজলুর রহমান। নাম দিয়েছেন, ‘মাস্টার শেফ হাজি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ক্যাটারিং’।

ফজলুর রহমান ক্যাটারিংটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর করেছেন তার ছেলে মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে। বাবার হাত ধরে ঐতিহ্যের কাচ্চির পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি।

আলাপকালে আশিকুর রহমান বলেন, অনেকে প্রতিদিন কল দিয়ে আমাদের ৫/৬ জনের খাবারের জন্য বলেন। যা আমরা এখন করতে পারছি না। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই আমরা একটা রেস্টুরেন্ট চেইন চালু করতে পারব। যাতে অনায়াসে আমাদের খাবার সবাই উপভোগ করতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐতিহ্যের স্বাদের কাচ্চি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমার লক্ষ্য।

করোনা মহামারিতে অনেকটা বেগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্যাটারিং ব্যবসা থমকে ছিল। লকডাউনের সময় কর্মীসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছিল। তবে এখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

আশিকুর রহমান জানান, শুরুতে বড় বড় অনুষ্ঠানের অর্ডার নিতেন তারা। ছোট অর্ডারের দিকে খুব একটা নজর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে এখন ধরন পাল্টেছেন তিনি। ছোট আয়োজনেও ঐতিহ্যের কাচ্চি সরবরাহ করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৬ জনের খাবারের অর্ডারও নিচ্ছেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

৮৭ বছরের পুরনো স্বাদের কাচ্চি মোহাম্মদপুরে

আপডেট সময় ১১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভোজন রসিকদের অনেকের কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে কাচ্চি। আর সেই কাচ্চির স্বাদে যদি জড়িয়ে থাকে তুর্কি বা মুঘল আমলের স্বাদ, তাহলে তো কথাই নেই!

২০২১ সালে এসে শত বছর আগের খাবারের স্বাদ পাওয়া অনেকটাই কঠিন। কেননা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে অনেকেই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। তবে কালেভাদ্রে এমনও অনেকের দেখা মেলে, যারা ঐহিত্যকে টিকে রেখেছেন যুগের পর যুগ।

তাদেরই একজন ফজলুর রহমান। ৬৬ বছর বয়সী ফজলুর রহমান বাবার কাছ থেকে কাচ্চি রান্না শিখেছেন। তার বাবা ইসমাইল মিয়া সে সময়ের জনপ্রিয় কাচ্চি রাঁধুনি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তৎকালীন নবাব বাড়ির শেফ ছিলেন ইসমাইল মিয়া। সেখান থেকে হোটেল পূর্বানীতে কাজ করেন তিনি।

ফজলুর রহমান জানান, বাবার কাছ থেকে বেশ সুপ্তভাবেই সব কিছু রপ্ত করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার রান্না করা কাচ্চির স্বাদ। বাবার কাছ থেকে শেখা কাচ্চির রেসিপি এখনো ধরে রেখেছেন ফজলুর রহমান। তিনি জানান, ৮৭ বছর ধরে তার পরিবার ঐতিহ্যবাহী এই কাচ্চি পরিবেশ করে আসছে।

বাবার থেকে কাচ্চি রান্না শেখার পর সেই রেসিপি তিনিও শিখিয়েছেন তার দুই সন্তানকে। তার প্রত্যাশা, আধুনিকতার তোড়ে যেন ঐতিহ্যের মৃত্যু না হয়।

গত চার দশকে ফজলুর রহমানের রান্না কাচ্চিতে লাখো মানুষের পেট ভরেছে। অর্জনটাও কম নন বলে জানিয়েছেন তিনি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্মৃতি সম্মাননা, মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

ফজলুর রহমানের ভাষায়, কাচ্চি রান্না শুধু একটা রান্না নয়। এটি একটি শিল্প। যা বংশীয়ভাবে তিনি ধারণ করে আসছেন। শিখিয়েছেন তার পরবর্তী প্রজন্মকেও।

তিনি বলেন, কাচ্চি বিরিয়ানি পূর্বে যেভাবে তৈরি হতো এখন বর্তমানে সেভাবে মান বজায় রেখে করা হয় না বলে মনে করি। কাচ্চি বিরিয়ানি দম কুকিং হচ্ছে একটা আর্ট। আমি মনে করি, আমি এখনো প্রতিনিয়ত শিখছি। আমার দুই ছেলেকে রন্ধন প্রণালী রপ্ত করিয়েছি। তারা বেশ আগে থেকেই আমার ক্যাটারিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় একটি ক্যাটারিং গড়েছেন মাস্টার শেফ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া ফজলুর রহমান। নাম দিয়েছেন, ‘মাস্টার শেফ হাজি মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ক্যাটারিং’।

ফজলুর রহমান ক্যাটারিংটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর করেছেন তার ছেলে মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে। বাবার হাত ধরে ঐতিহ্যের কাচ্চির পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি।

আলাপকালে আশিকুর রহমান বলেন, অনেকে প্রতিদিন কল দিয়ে আমাদের ৫/৬ জনের খাবারের জন্য বলেন। যা আমরা এখন করতে পারছি না। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই আমরা একটা রেস্টুরেন্ট চেইন চালু করতে পারব। যাতে অনায়াসে আমাদের খাবার সবাই উপভোগ করতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐতিহ্যের স্বাদের কাচ্চি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমার লক্ষ্য।

করোনা মহামারিতে অনেকটা বেগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্যাটারিং ব্যবসা থমকে ছিল। লকডাউনের সময় কর্মীসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছিল। তবে এখন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

আশিকুর রহমান জানান, শুরুতে বড় বড় অনুষ্ঠানের অর্ডার নিতেন তারা। ছোট অর্ডারের দিকে খুব একটা নজর দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে এখন ধরন পাল্টেছেন তিনি। ছোট আয়োজনেও ঐতিহ্যের কাচ্চি সরবরাহ করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৬ জনের খাবারের অর্ডারও নিচ্ছেন তারা।