ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

গরম পানির ভাপ, ত্বকের জন্য উপকার না ক্ষতি?

আপডেট সময় ১০:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক জেল্লা বাড়ানোর জন্য অনেকেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে গরম পানির ভাপ বা স্টিম থেরাপির ওপর ভরসা করেন। নিয়মিত ত্বকচর্চার অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানির ভাপ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই পদ্ধতির যেমন রয়েছে একাধিক উপকারিতা, তেমনি সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে ত্বকের জন্য কিছু ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের জন্য স্টিম থেরাপি বেশ কার্যকর একটি উপায়। বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি ও ময়লা জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ, কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস নরম হয়ে ত্বক থেকে সহজে বেরিয়ে আসে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোলে।

গরমের দিনে যখন ত্বক ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে নতুন সতেজতা এনে দেয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে সেটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এতে ত্বক আরও কোমল ও নরম হয়ে ওঠে।

চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে ত্বক কুঁচকে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং চামড়া থাকে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির সঙ্গে নিমপাতা ব্যবহার করে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।

তবে স্টিম থেরাপির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে উল্টো ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে ভাপ নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সময় বা ঘন ঘন ভাপ নেওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন নয়, বরং একদিন পরপর স্টিম নেওয়াই উত্তম। ভাপ নেওয়ার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি গ্রহণ করলে ত্বকের হারানো জেল্লা ও প্রাণবন্ত ভাব সহজেই ফিরে পাওয়া সম্ভব।