ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে বের করতে নতুন কারিক্যুলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বের করে আনা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সে জন্য নতুন ধরনের কারিক্যুলাম তৈরি করা হচ্ছে।

শনিবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর ‘কলম’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জিপিএ দ্বারা তাদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা যাবে না। এ কারণে জিপিএ-৫ পাওয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা কী শিখলো সেটি বড় বিষয় হচ্ছে না। কে কত জিপিএ পেয়েছে সেটি নিয়ে সবার উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের বের করে আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ তৈরি করা হবে। তার মাধ্যমে যার মধ্যে যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে সেটি বিকশিত করা হবে। এ জন্য উপযুক্ত কারিক্যুলাম তৈরি করা হচ্ছে।

সন্তানদের পরীক্ষায় পাসে জিপিএ বেশি পাওয়ার চাপ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যার যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে সেটি বিকশিত করতে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হবে। জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বের করে আনা হবে। সে জন্য নতুন ধরনের পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে।

দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা শিখছে। কিন্তু সে নিজে বলতে পারছে না। তার কারণ আমাদের কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে।

কোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় পাঠদানের জন্য ক্লাসে যাবেন না, সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে ক্লাস শিক্ষকরা নিয়োগের তিন থেকে চার বছর পর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ পেত। বর্তমানে সেটি পরিবর্তন করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। করোনা আমাদেরকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আমাদের মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক ঘাটতি ছিল। আমরা ইতোমধ্যে সেটি পূরণ করার চেষ্টা করেছি।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে আমাদের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পিএসসির পক্ষ থেকে এক হাজার ২০০ শিক্ষকের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এছাড়া সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনায় শিক্ষা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে প্রণোদনা প্রয়োজন আছে। কারণ শিক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আমাদের ইন্টারনেটের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নগরায়নের শিক্ষকরা সুবিধা বেশি পাচ্ছেন।

ইরাবের সভাপতি সাব্বির নেওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, সাংবাদিক শফিফুজ্জামান পিন্টু, স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতির নেতা শাজাহান সাজু বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিরতির পর নতুন রূপ নিয়ে ফিরছেন রাইমা সেন

জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে বের করতে নতুন কারিক্যুলাম

আপডেট সময় ০৯:১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বের করে আনা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সে জন্য নতুন ধরনের কারিক্যুলাম তৈরি করা হচ্ছে।

শনিবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর ‘কলম’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জিপিএ দ্বারা তাদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা যাবে না। এ কারণে জিপিএ-৫ পাওয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা কী শিখলো সেটি বড় বিষয় হচ্ছে না। কে কত জিপিএ পেয়েছে সেটি নিয়ে সবার উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের বের করে আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ তৈরি করা হবে। তার মাধ্যমে যার মধ্যে যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে সেটি বিকশিত করা হবে। এ জন্য উপযুক্ত কারিক্যুলাম তৈরি করা হচ্ছে।

সন্তানদের পরীক্ষায় পাসে জিপিএ বেশি পাওয়ার চাপ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যার যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে সেটি বিকশিত করতে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হবে। জিপিএ বেশি পাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বের করে আনা হবে। সে জন্য নতুন ধরনের পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে।

দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা শিখছে। কিন্তু সে নিজে বলতে পারছে না। তার কারণ আমাদের কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হচ্ছে।

কোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় পাঠদানের জন্য ক্লাসে যাবেন না, সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে ক্লাস শিক্ষকরা নিয়োগের তিন থেকে চার বছর পর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ পেত। বর্তমানে সেটি পরিবর্তন করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। করোনা আমাদেরকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আমাদের মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক ঘাটতি ছিল। আমরা ইতোমধ্যে সেটি পূরণ করার চেষ্টা করেছি।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে আমাদের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পিএসসির পক্ষ থেকে এক হাজার ২০০ শিক্ষকের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এছাড়া সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনায় শিক্ষা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে প্রণোদনা প্রয়োজন আছে। কারণ শিক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আমাদের ইন্টারনেটের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নগরায়নের শিক্ষকরা সুবিধা বেশি পাচ্ছেন।

ইরাবের সভাপতি সাব্বির নেওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, সাংবাদিক শফিফুজ্জামান পিন্টু, স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতির নেতা শাজাহান সাজু বক্তব্য রাখেন।