ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা

ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে গরু-ছাগল বিক্রি করা কি জায়েজ?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে ইদানীং জীবিত পশুর ওজন মাপার জন্য বসানো হয়েছে ওজন মাপার ডিজিটাল স্কেল। এসব স্কেলের এক পাশ দিয়ে গরু বা ছাগল প্রবেশ করিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে আরেক পাশ দিয়ে বের করা হয়। এতে স্কেলে ওই পশুটির ওজন পরিমাপ হয়ে যায়।

পশু কেনাবেচায় ক্রেতা-বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের সন্দেহ দূর করার জন্যই এ স্কেল বসানো হয়েছে। ছোট সাইজের গরু কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকা দরে আর বড় ও সুন্দর আকৃতির গরু ৩৫০-৪০০ টাকা দরে বিক্রির চুক্তি হওয়ার পর ওজন মাপার স্কেলে উঠানো হয় এবং এতে সর্বমোট কেজির সংখ্যা ও তার দাম বেরিয়ে আসে। তাই যারা গরু বিক্রি করেন তারাও বিক্রির সময় গরুর ওজন দেখেন, আর যারা কেনেন তারাও ওজন দেখে নেন।

এখন প্রশ্ন হলো— শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে জীবন্ত গরু-ছাগল ওজন করে বিক্রি করা বৈধ হবে কিনা?

ফিকহে হানাফির পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যদিও জীবন্ত পশু ওজন করে বিক্রিকে নাজায়েজ বলা হয়েছে; কিন্তু পরবর্তী সময় হাঁস-মুরগি ওজন করে বিক্রির প্রচলনের কারণে মুফতিয়ানে কেরাম একে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন।

আর বর্তমানে জীবন্ত গরু-ছাগলও ওজন করে বিক্রির প্রচলন হয়ে গেছে, বিধায় তাও জায়েজ হবে। উপরন্তু এ পদ্ধতিতে ক্রেতা-বিক্রেতার ধোঁকাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

এ ছাড়া আলোচ্য পদ্ধতিটি পশুর মূল্য নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া মাত্র। আগেকার কিতাবসমূহে ওই পদ্ধতিতে পশু বিক্রি নাজায়েজ বলার একটি কারণ এও ছিল যে, চুক্তির সময় পশুর নিশ্চিত চূড়ান্ত মূল্য কারওই জানা থাকে না।

কিন্তু চুক্তির মজলিসেই যখন স্কেল দ্বারা মেপে তার সঠিক পরিমাপ বের করা হয়, তখন তার পুরো মূল্যও উভয়পক্ষের জানা হয়ে যায়। আর এতে তাদের মাঝে কোনোরূপ ঝগড়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাকি থাকে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে গরু-ছাগল বিক্রি করা কি জায়েজ?

আপডেট সময় ১১:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকার কোরবানির হাটগুলোতে ইদানীং জীবিত পশুর ওজন মাপার জন্য বসানো হয়েছে ওজন মাপার ডিজিটাল স্কেল। এসব স্কেলের এক পাশ দিয়ে গরু বা ছাগল প্রবেশ করিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে আরেক পাশ দিয়ে বের করা হয়। এতে স্কেলে ওই পশুটির ওজন পরিমাপ হয়ে যায়।

পশু কেনাবেচায় ক্রেতা-বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের সন্দেহ দূর করার জন্যই এ স্কেল বসানো হয়েছে। ছোট সাইজের গরু কেজিপ্রতি ৩০০-৩২০ টাকা দরে আর বড় ও সুন্দর আকৃতির গরু ৩৫০-৪০০ টাকা দরে বিক্রির চুক্তি হওয়ার পর ওজন মাপার স্কেলে উঠানো হয় এবং এতে সর্বমোট কেজির সংখ্যা ও তার দাম বেরিয়ে আসে। তাই যারা গরু বিক্রি করেন তারাও বিক্রির সময় গরুর ওজন দেখেন, আর যারা কেনেন তারাও ওজন দেখে নেন।

এখন প্রশ্ন হলো— শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে জীবন্ত গরু-ছাগল ওজন করে বিক্রি করা বৈধ হবে কিনা?

ফিকহে হানাফির পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যদিও জীবন্ত পশু ওজন করে বিক্রিকে নাজায়েজ বলা হয়েছে; কিন্তু পরবর্তী সময় হাঁস-মুরগি ওজন করে বিক্রির প্রচলনের কারণে মুফতিয়ানে কেরাম একে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন।

আর বর্তমানে জীবন্ত গরু-ছাগলও ওজন করে বিক্রির প্রচলন হয়ে গেছে, বিধায় তাও জায়েজ হবে। উপরন্তু এ পদ্ধতিতে ক্রেতা-বিক্রেতার ধোঁকাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

এ ছাড়া আলোচ্য পদ্ধতিটি পশুর মূল্য নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া মাত্র। আগেকার কিতাবসমূহে ওই পদ্ধতিতে পশু বিক্রি নাজায়েজ বলার একটি কারণ এও ছিল যে, চুক্তির সময় পশুর নিশ্চিত চূড়ান্ত মূল্য কারওই জানা থাকে না।

কিন্তু চুক্তির মজলিসেই যখন স্কেল দ্বারা মেপে তার সঠিক পরিমাপ বের করা হয়, তখন তার পুরো মূল্যও উভয়পক্ষের জানা হয়ে যায়। আর এতে তাদের মাঝে কোনোরূপ ঝগড়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাকি থাকে না।