অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ভারতে ধর্ষক বাবা রাম রহিম সিংয়ের সাজা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু ডেরা সচ সৌদার অন্দরে কী আছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। আজ দেশটির আদালতের নির্দেশে রাম রহিমের ডেরায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে সেখানে যায় ৫০ জন ভিডিওগ্রাফার ও ১২ জন তালার মিস্ত্রি। লুকোনো পথের খোঁজ করার জন্য খনন করার মেশিনও নেওয়া হয়।
তল্লাশি শুরুর ২ ঘণ্টা পর নগদ টাকার পাশাপাশি সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্লাস্টিকের টাকা, ব্যান হয়ে যাওয়া মুদ্রা, হার্ড ডিস্ক ও কম্পিউটার। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২টি ঘর সিল করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে ডেরার হেডকোয়ার্টার প্রায় ৮০০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত৷ সম্পূর্ণ জায়গাতেই আজ তল্লাশি চালানো হবে। এদিকে আদালতের নির্দেশে সতর্ক আছে বোম স্কোয়্যাড, কমান্ডো, অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকল বাহিনী।
নিজের “রকস্টার” লাইফস্টাইলের জন্য বিখ্যাত ছিলেন ধর্ষক বাবা। তার “ডেরা”-ও তেমনভাবেই তৈরি। তার এলাকার মধ্যে রয়েছে আইফেল টাওয়ার, তাজমহল, ডিজনি ওয়ার্ল্ডের রেপ্লিকা। আছে সেভেন স্টার রিসোর্ট “এমএসজি রিসোর্ট”৷ “ম্যাসেঞ্জার অফ গড”-এর বড় আকারের পোস্টার রয়েছে ডেরার সর্বত্র। এছাড়া আছে আন্তর্জাতিক মানের স্কুল, দোকান, হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, বাড়ি ও সিনেমা দেখার জন্য থিয়েটার।
“বাবা”-র ডেরায় একটি গোলাপি বাড়ি আছে। বাড়ির নাম “গুফা” (গুহা)। এই বাড়িতেই ধর্ষক বাবা তার ধর্ষণকাণ্ড চালাত। এই জায়গাটিতে এখনও পর্যন্ত তল্লাশি নেওয়া হয়নি। পুলিশ চিফ বিএস সন্ধু জানিয়েছেন, “ডেরার এলাকা খুব বড়। সম্পূর্ণ জায়গায় তল্লাশি চালাতে অনেকটা সময় লেগে যাবে।” ডেরার কাছাকাছি অনেক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতি জায়গায় পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে আধা সামরিকবাহিনী। এছাড়া আছে ৪০ সোয়াত কম্যান্ডো, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ডগ স্কোয়্যাড।
২৫ অগস্ট ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় রাম রহিম সিং। তারপর সিরসায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে৷ ঘটনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে হরিয়ানার ডেরায় ১০০টি নামচর্চা ঘর বা কনভেনশন হলে তল্লাশি চলে। পুলিশ সূত্রে খবর সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেরার মুখপাত্র বিপাসনা ইনসান জানিয়েছেন, “ডেরা সবসময় আইন মেনে চলে। আমরা অনুগামীদের শান্তি রক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























